ঘুমানোর আগে ১০টি আমল | প্রতিটি মুসলিমের জানা উচিত
ঘুমানোর আগে ১০টি আমল যা প্রতিটি মুসলিমের জানা উচিত
ভূমিকা —
ইসলামে মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের জন্য সুন্দর আদব ও আমল শেখানো হয়েছে। ঘুমও এর ব্যতিক্রম নয়। একজন মুসলিম চাইলে ঘুমানোর সময়টিকেও ইবাদত ও সওয়াবের কাজে পরিণত করতে পারেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ ঘুমানোর আগে বিভিন্ন দোয়া, জিকির ও আমল করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও তা শিক্ষা দিয়েছেন।
ঘুমানোর আগে কিছু নির্দিষ্ট আমল করলে আল্লাহর স্মরণে রাত শুরু হয়, মন প্রশান্ত হয় এবং একজন মুমিন আল্লাহর ওপর ভরসা করে ঘুমাতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, এসব আমল করার উদ্দেশ্য শুধু দুনিয়াবি উপকার পাওয়া নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই মূল উদ্দেশ্য।
এই পোস্টে ঘুমানোর আগে করার মতো ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
ওজু করে ঘুমানো
ঘুমানোর আগে ওজু করা একটি সুন্দর সুন্নাহ। রাসুলুল্লাহ ﷺ সাহাবিদের ঘুমানোর আগে ওজু করে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
হজরত বারা ইবনু আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন তুমি বিছানায় যাবে, তখন নামাজের ওজুর মতো ওজু করবে। এরপর ডান কাতে শুয়ে বলবে—
اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ وَجْهِيَ إِلَيْكَ...
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি আমার নিজেকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম...।
(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
তাই সম্ভব হলে ঘুমানোর আগে ওজু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অবস্থায় বিছানায় যাওয়া উত্তম।
আয়াতুল কুরসি পাঠ করা
ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
আয়াতুল কুরসি হলো সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। সহিহ বুখারিতে আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত একটি ঘটনায় ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠের ফজিলতের কথা এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছে আসতে পারে না।
তাই প্রতিদিন ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।
সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়া
ঘুমানোর আগে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রতি রাতে যখন বিছানায় যেতেন, তখন দুই হাত একত্র করে তাতে ফুঁ দিতেন এবং সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করতেন। এরপর হাত দিয়ে শরীরের যতটুকু সম্ভব মুছে নিতেন। তিনি এভাবে তিনবার করতেন।
(সহিহ বুখারি)
এই আমলটি খুব সহজ এবং অল্প সময়ের মধ্যেই করা যায়।
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া
ঘুমানোর আগে সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত—২৮৫ ও ২৮৬ নম্বর আয়াত—পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।”
(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
তাই সম্ভব হলে প্রতিদিন রাতে এই দুই আয়াত পড়ার অভ্যাস করা ভালো।
তাসবিহ, তাহমিদ ও তাকবির পড়া
ঘুমানোর আগে জিকির করার একটি বিশেষ আমল হলো—
- সুবহানাল্লাহ — ৩৩ বার
- আলহামদুলিল্লাহ — ৩৩ বার
- আল্লাহু আকবার — ৩৪ বার
মোট ১০০ বার।
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, ফাতিমা (রা.) গৃহস্থালির কাজের কষ্টের কথা বললে রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁদের ঘুমানোর আগে এই জিকিরগুলো করার শিক্ষা দেন।
(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
এই আমলটি অত্যন্ত সহজ। নিয়মিত করলে ঘুমানোর আগে আল্লাহর জিকির করার একটি সুন্দর অভ্যাস তৈরি হয়।
ঘুমানোর দোয়া পড়া
ঘুমানোর আগে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো দোয়া পড়া উচিত।
একটি সহজ ও পরিচিত দোয়া হলো—
بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا
উচ্চারণ:
বিসমিকা আল্লাহুম্মা আমুতু ওয়া আহইয়া।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আপনার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করি এবং জীবিত হই।
(সহিহ বুখারি)
প্রতিদিন ঘুমানোর আগে এই দোয়াটি পড়ার অভ্যাস করা উচিত।
ডান কাতে শোয়া
ইসলামে ঘুমানোর ক্ষেত্রেও সুন্দর আদব রয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ ঘুমানোর সময় ডান কাতে শোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ হজরত বারা ইবনু আজিব (রা.)-কে ঘুমানোর সময় ডান কাতে শুতে বলেছেন।
(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
তাই সম্ভব হলে ঘুমানোর শুরুতে ডান কাতে শোয়া সুন্নাহ অনুসরণের একটি সুন্দর মাধ্যম।
বিছানা ঝেড়ে নেওয়া
ঘুমানোর আগে নিজের বিছানা ঝেড়ে নেওয়াও সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ বিছানায় যাবে, তখন সে যেন নিজের কাপড়ের একাংশ দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়। কারণ তার অনুপস্থিতিতে সেখানে কী এসেছে, সে তা জানে না।
(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
বর্তমান সময়েও এটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বিছানায় ধুলা বা কোনো ক্ষতিকর বস্তু থাকলে তা সরিয়ে নেওয়া নিরাপদ।
নিজের হিসাব নেওয়া ও তওবা করা
ঘুমানোর আগে দিনের কাজগুলো একবার ভেবে দেখা একজন মুসলিমের জন্য উপকারী অভ্যাস।
নিজেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে—
আজ আমি কি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকভাবে আদায় করেছি?
- কারও মনে কি কষ্ট দিয়েছি?
- কোনো গুনাহ করেছি কি?
- কারও হক নষ্ট করেছি কি?
- আজ আল্লাহর কতটা স্মরণ করেছি?
- আগামীকাল কীভাবে নিজেকে আরও ভালো করা যায়?
কোনো ভুল হয়ে থাকলে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করা উচিত। আল্লাহ তাআলা বান্দার তওবা কবুল করেন।
তবে এটিকে নির্দিষ্ট সুন্নাহ আমল হিসেবে দাবি না করে একজন মুমিনের আত্মসমালোচনা ও তওবার ভালো অভ্যাস হিসেবে দেখা উচিত।
আল্লাহর ওপর ভরসা করে ঘুমানো
দিনের সব চিন্তা ও দুশ্চিন্তা আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে ঘুমাতে যাওয়া একজন মুমিনের জন্য প্রশান্তির বিষয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।”
(সূরা আত-তালাক: ৩)
ঘুমানোর আগে নিজের পরিবার, ভবিষ্যৎ, রিজিক, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য চিন্তা আল্লাহর কাছে সোপর্দ করে তাঁর ওপর ভরসা করা উচিত।
ঘুমানোর আগে আমল করার সহজ রুটিন
যারা প্রতিদিন রাতে নিয়মিত আমল করতে চান, তারা নিচের মতো একটি সহজ রুটিন অনুসরণ করতে পারেন—
- ওজু করুন।
- বিছানা পরিষ্কার করে নিন।
- আয়াতুল কুরসি পড়ুন।
- সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ুন।
- সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়ুন।
- ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ পড়ুন।
- ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ পড়ুন।
- ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়ুন।
- ঘুমের দোয়া পড়ুন।
- ডান কাতে শুয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে ঘুমিয়ে পড়ুন।
সব আমল একসঙ্গে করা সম্ভব না হলেও হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। ধীরে ধীরে একটি একটি করে অভ্যাস তৈরি করা ভালো।
ঘুমানোর আগে আমল করার উপকারিতা
ঘুমানোর আগে জিকির, দোয়া ও সুন্নাহ আমল করার মাধ্যমে একজন মুসলিম আল্লাহর স্মরণে রাত শুরু করতে পারেন। এর ফলে অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, কোনো আমলের দুনিয়াবি ফলাফলকে নিশ্চিত চিকিৎসা বা গ্যারান্টি হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়। আমল করা হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুসরণের উদ্দেশ্যে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়
আমলগুলো সহিহ সূত্র থেকে শেখা উচিত
ইসলামের নামে কোনো দোয়া বা আমল প্রচার করার আগে তার উৎস যাচাই করা জরুরি। দুর্বল বা ভিত্তিহীন বর্ণনাকে সহিহ হাদিস হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।
শুধু আমল করলেই দায়িত্ব শেষ নয়
নামাজ, ফরজ ইবাদত, হালাল-হারাম মেনে চলা এবং মানুষের হক আদায় করা একজন মুসলিমের মূল দায়িত্ব। ঘুমানোর আগের আমলগুলো এসব ফরজ দায়িত্বের বিকল্প নয়।
নিয়মিত আমল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
একদিন অনেক আমল করে পরে বাদ দেওয়ার চেয়ে অল্প হলেও নিয়মিত আমল করা উত্তম। তাই নিজের জন্য সহজ একটি রাতের আমল রুটিন তৈরি করা ভালো।
উপসংহার
ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট সময় ব্যয় করে একজন মুসলিম অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ ও জিকির পালন করতে পারেন। ওজু করা, আয়াতুল কুরসি পড়া, সূরা ইখলাস-ফালাক-নাস পড়া, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করা, তাসবিহ-তাহমিদ-তাকবির পড়া এবং ঘুমের দোয়া পড়ার মতো আমলগুলো আমাদের রাতকে আল্লাহর স্মরণে সুন্দরভাবে শেষ করার সুযোগ দেয়।
তাই আসুন, আমরা প্রতিদিন ঘুমানোর আগে কিছু সময় আল্লাহর জিকির ও দোয়ার জন্য রাখি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপন করার এবং নিয়মিত আমল করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।
আরও পড়ুন
ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুরের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা
FAQ
প্রশ্নঃ ঘুমানোর আগে কোন আমল করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর – ঘুমানোর আগে ওজু করা, আয়াতুল কুরসি পাঠ করা, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়া, ঘুমের দোয়া পড়া এবং আল্লাহর জিকির করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ আমলের মধ্যে রয়েছে।
প্রশ্নঃ ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত কী?
উত্তর – সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছে আসতে পারে না।
প্রশ্নঃ ঘুমানোর আগে কোন তিনটি সূরা পড়তে হয়?
উত্তর – ঘুমানোর আগে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়া সুন্নাহ। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এগুলো পড়ে নিজের শরীরে হাত বুলিয়ে দিতেন এবং এভাবে তিনবার করতেন।
প্রশ্নঃ ঘুমানোর আগে কতবার তাসবিহ পড়তে হয়?
উত্তর – ঘুমানোর আগে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়ার কথা হাদিসে এসেছে।
প্রশ্নঃ ঘুমানোর সময় কোন দিকে কাত হয়ে শোয়া সুন্নাহ?
উত্তর – রাসুলুল্লাহ ﷺ ঘুমানোর সময় ডান কাতে শোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই সম্ভব হলে ঘুমানোর শুরুতে ডান কাতে শোয়া সুন্নাহ।
প্রশ্নঃ ঘুমানোর আগে ওজু করা কি জরুরি?
উত্তর – ওজু করে ঘুমানো সুন্নাহ ও উত্তম আমল। তবে এটি ঘুমানোর জন্য ফরজ বা বাধ্যতামূলক নয়। সম্ভব হলে ওজু করে ঘুমানো ভালো।
প্রশ্নঃ ঘুমানোর আগে কোন দোয়া পড়তে হয়?
উত্তর – রাসুলুল্লাহ ﷺ ঘুমানোর আগে বিভিন্ন দোয়া শিখিয়েছেন। এর মধ্যে একটি হলো—
بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করি এবং জীবিত হই।”
প্রশ্নঃ ঘুমানোর আগে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া যাবে কি?
উত্তর – হ্যাঁ। সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত—২৮৫ ও ২৮৬ নম্বর আয়াত—রাতে পাঠ করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে এ বিষয়ে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
প্রশ্নঃ ঘুমানোর আগে বিছানা ঝেড়ে নেওয়া কেন ভালো?
উত্তর – সহিহ হাদিসে ঘুমানোর আগে নিজের কাপড়ের একাংশ দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেওয়ার নির্দেশ এসেছে। এতে সুন্নাহ পালন করার পাশাপাশি বিছানায় থাকা ধুলা বা ক্ষতিকর কিছু সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ হয়।
প্রশ্নঃ ঘুমানোর আগে আমল করলে কি গুনাহ মাফ হয়ে যায়?
উত্তর – কিছু আমলের বিশেষ ফজিলত রয়েছে, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট আমল সম্পর্কে সহিহ দলিল ছাড়া “সব গুনাহ অবশ্যই মাফ হয়ে যাবে”—এমন দাবি করা উচিত নয়। ফরজ ইবাদত পালন, আন্তরিক তওবা এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।
প্রশ্নঃ ঘুমানোর আগে আমল করতে কত সময় লাগে?
উত্তর – অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমল করতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। নিয়মিত অভ্যাস করলে অল্প সময়ের মধ্যেই আয়াতুল কুরসি, তিন কুল, জিকির ও ঘুমের দোয়া পড়া সম্ভব।
প্রশ্নঃ ঘুমানোর আগে আমল করার মূল উদ্দেশ্য কী?
উত্তর – ঘুমানোর আগে আমলের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, তাঁর জিকির করা এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুসরণ করা। পাশাপাশি এসব আমল একজন মুমিনকে আল্লাহর স্মরণে রাত শেষ করার সুযোগ দেয়।
প্রশ্নঃ ঘুমানোর আগে সবগুলো আমল একসঙ্গে করা কি বাধ্যতামূলক?
উত্তর – না। সবগুলো আমল একসঙ্গে করা বাধ্যতামূলক নয়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহিহ সুন্নাহ আমলগুলো নিয়মিত করার চেষ্টা করা উচিত।
প্রশ্নঃ ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার না করে আমল করা কি ভালো?
উত্তর – ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার কমিয়ে কিছু সময় কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার জন্য রাখা ভালো। এতে রাতটি ইবাদতের মাধ্যমে শেষ করার সুযোগ পাওয়া যায়।
প্রশ্নঃ ঘুমানোর আগে আমল করার সবচেয়ে ভালো অভ্যাস কী?
উত্তর – প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেওয়া, ওজু করা, বিছানা পরিষ্কার করা, আয়াতুল কুরসি ও তিন কুল পড়া, জিকির করা এবং ঘুমের দোয়া পড়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে ঘুমানো একটি সুন্দর অভ্যাস হতে পারে।

প্রতিদিন কত ঘন্টা ঘুমানো উচিত?
ঘুমানোর আগে আমল করার সবচেয়ে ভালো অভ্যাস কী?