কিডনি রোগের ঝুঁকি কার বেশি? কিডনি নষ্ট হওয়ার ১২টি লক্ষণ
কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয় কিডনি রোগের ঝুঁকি ও করণীয়
![]() |
কিডনি রোগের ঝুঁকি কার বেশি এবং কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে শরীরে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে, সেগুলো সম্পর্কে জেনে সচেতন থাকুন। |
ভূমিকা –
কিডনি আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি ছেঁকে বের করা, শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরিতে কিডনির ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় কিডনির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং শুরুতে তেমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না।
তাই কিডনি রোগের ঝুঁকি কার বেশি, কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে, এবং কখন কিডনি পরীক্ষা করা উচিত– এসব জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ: নিচের লক্ষণগুলোর কোনো একটি থাকলেই কিডনি নষ্ট হচ্ছে—এমন নয়। অন্যান্য অনেক রোগ বা শারীরিক সমস্যাতেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা জরুরি।
কিডনি রোগ কী?
কিডনি যখন দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকভাবে রক্ত পরিশোধন করতে পারে না বা কিডনির গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন কিডনি রোগ হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগকে সাধারণভাবে Chronic Kidney Disease (CKD) বলা হয়।
CKD ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। অনেক মানুষের ক্ষেত্রে রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উল্লেখযোগ্য উপসর্গ থাকে না। এজন্য ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনি রোগের ঝুঁকি কার বেশি?
কিছু মানুষের কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
১. ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনির ক্ষতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। রক্তে দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গ্লুকোজ থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাই ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কিডনির কার্যকারিতাও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
২. উচ্চ রক্তচাপের রোগী
অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ কিডনির রক্তনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
আবার কিডনি রোগের কারণেও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি রোগের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে।
৩. পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে
পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে কিডনি রোগ থাকলে কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তির ঝুঁকি বেশি হতে পারে। বিশেষ কিছু বংশগত কিডনি রোগও রয়েছে।
তাই পরিবারের কারও দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ থাকলে চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো ভালো।
৪. হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা
হৃদরোগ এবং কিডনি রোগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। হৃদযন্ত্র ও কিডনি একে অপরের কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
হৃদরোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিডনির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন হতে পারে।
৫. অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকলে
স্থূলতা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব কারণের মাধ্যমে কিডনি রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা তাই কিডনির সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
৬. দীর্ঘদিন ধূমপান করলে
ধূমপান রক্তনালির ক্ষতি করতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কিডনির স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ধূমপান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির বিষয়।
৭. দীর্ঘদিন কিছু ওষুধ অতিরিক্ত গ্রহণ করলে
কিছু ব্যথানাশক ওষুধসহ নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত ব্যবহার করলে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত।
৮. বারবার কিডনিতে পাথর বা মূত্রনালির সমস্যা হলে
কিডনিতে বারবার পাথর হওয়া, প্রস্রাবের পথে বাধা বা কিছু দীর্ঘস্থায়ী মূত্রনালির সমস্যা কিডনির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ধরনের সমস্যা বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৯. বয়স বাড়লে
বয়স বাড়ার সঙ্গে কিডনির কার্যক্ষমতায় স্বাভাবিক কিছু পরিবর্তন হতে পারে। তবে বয়স বাড়লেই কিডনি রোগ হবে—এমন নয়।
বয়স্ক ব্যক্তিদের যদি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের মতো ঝুঁকি থাকে, তাহলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে শরীরে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?
কিডনি রোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই থাকে না।
রোগ কিছুটা অগ্রসর হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে।
১. প্রস্রাবের পরিমাণ বা অভ্যাসে পরিবর্তন
প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম বা বেশি হওয়া, বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হওয়া বা রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম থেকে ওঠা—কিডনি বা মূত্রনালির সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তবে এসব লক্ষণের আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।
২. প্রস্রাবে ফেনা দেখা
প্রস্রাবের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রোটিন বের হলে প্রস্রাবে অস্বাভাবিকভাবে ফেনা দেখা যেতে পারে।
তবে একবার বা মাঝে মাঝে ফেনা দেখা গেলেই কিডনি রোগ হয়েছে—এমন নয়। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
৩. প্রস্রাবে রক্ত
প্রস্রাব গোলাপি, লাল বা চা-রঙের দেখালে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়।
কিডনি রোগ ছাড়াও কিডনিতে পাথর, মূত্রনালির সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণে প্রস্রাবে রক্ত আসতে পারে। তাই কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
৪. শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যাওয়া
কিডনি অতিরিক্ত লবণ ও পানি ঠিকভাবে বের করতে না পারলে শরীরে তরল জমে যেতে পারে। এর ফলে বিশেষ করে—
- পা ও গোড়ালি
- পায়ের পাতা
- হাত
- চোখের চারপাশ
- ফুলে যেতে পারে।
৫. অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা
কিডনি দীর্ঘদিন ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমতে পারে এবং রক্তস্বল্পতাসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে দুর্বলতা, ক্লান্তি বা দৈনন্দিন কাজে আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
৬. ক্ষুধা কমে যাওয়া
কিডনির কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে ক্ষুধা কমে যাওয়া বা খাবারের প্রতি অনীহাও থাকতে পারে।
৭. বমি বমি ভাব বা বমি
কিডনির কার্যক্ষমতা গুরুতরভাবে কমে গেলে শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে বমি বমি ভাব, বমি বা খাবারে অরুচি হতে পারে।
তবে এসব উপসর্গের আরও অনেক কারণ রয়েছে।
৮. ত্বক শুষ্ক ও চুলকানি
অগ্রসর কিডনি রোগে শরীরে কিছু বর্জ্য পদার্থ জমে ত্বকে চুলকানি বা শুষ্কতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৯. পেশিতে টান বা ক্র্যাম্প
কিডনি শরীরের বিভিন্ন খনিজ ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে এই ভারসাম্যে পরিবর্তন হতে পারে এবং কিছু মানুষের পেশিতে টান বা ক্র্যাম্প হতে পারে।
১০. ঘুমের সমস্যা
কিডনি রোগের সঙ্গে ঘুমের সমস্যা, অস্বস্তি বা রাতে বারবার জেগে ওঠার মতো বিষয়ও দেখা যেতে পারে।
তবে ঘুমের সমস্যার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর অনেকগুলোই কিডনি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
১১. শ্বাসকষ্ট
কিডনি অতিরিক্ত তরল বের করতে না পারলে শরীরে পানি জমতে পারে। গুরুতর অবস্থায় ফুসফুসের চারপাশে বা ফুসফুসে তরল জমার কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট হলে বিশেষ করে হঠাৎ বা তীব্র হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
১২. মনোযোগ ও চিন্তাশক্তিতে পরিবর্তন
গুরুতর কিডনি সমস্যায় শরীরে বর্জ্য পদার্থের মাত্রা বেড়ে গেলে কিছু মানুষের মনোযোগ কমে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা স্বাভাবিক মানসিক কার্যক্রমে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
কিডনি রোগ বুঝতে কোন কোন পরীক্ষা করা হয়?
শুধু লক্ষণ দেখে কিডনি রোগ নিশ্চিত করা যায় না। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা দিতে পারেন।
১. রক্তের ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা
রক্তে Creatinine পরিমাপ করে কিডনি রক্ত পরিশোধনের কাজ কতটা করছে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
২. eGFR পরীক্ষা
eGFR (estimated Glomerular Filtration Rate) কিডনির ফিল্টার করার ক্ষমতা মূল্যায়নে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
৩. প্রস্রাব পরীক্ষা
প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন আছে কি না এবং অন্যান্য অস্বাভাবিকতা আছে কি না তা পরীক্ষা করা যেতে পারে।
বিশেষ করে Urine Albumin-to-Creatinine Ratio (UACR) কিডনির ক্ষতির প্রাথমিক চিহ্ন শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
৪. রক্তচাপ মাপা
উচ্চ রক্তচাপ কিডনি রোগের কারণও হতে পারে এবং কিডনি রোগের ফলও হতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
৫. আল্ট্রাসনোগ্রাম
প্রয়োজনে চিকিৎসক কিডনি ও মূত্রনালির গঠন দেখার জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাম বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষা করতে পারেন।
কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন?
কিডনি রোগ প্রতিরোধ বা ঝুঁকি কমানোর জন্য দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করুন।
- ধূমপান এড়িয়ে চলুন।
- অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কমান।
- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
- নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন।
- প্রয়োজন ছাড়া ব্যথানাশক বা অন্য কোনো ওষুধ দীর্ঘদিন খাবেন না।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন, তবে কিডনি বা হৃদরোগের কারণে চিকিৎসক যদি পানির পরিমাণ সীমিত করতে বলেন, সেই নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
- কিডনি রোগের ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
নিচের কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
- প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে
- প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ অনেক কমে গেলে
- শরীর বা পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে
- দীর্ঘদিন প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা দেখা গেলে
- অকারণে দীর্ঘদিন দুর্বলতা থাকলে
- শ্বাসকষ্ট হলে
- বারবার বমি হলে
- কিডনির রোগের ঝুঁকি থাকা অবস্থায় নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে
হঠাৎ খুব কম প্রস্রাব হওয়া, তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকের ব্যথা, অস্বাভাবিক বিভ্রান্তি বা গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিন।
কিডনি রোগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কথা
কিডনি নষ্ট হওয়ার আগেই সবসময় শরীরে স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। এ কারণেই শুধু উপসর্গের ওপর নির্ভর না করে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, পারিবারিক কিডনি রোগের ইতিহাস বা দীর্ঘদিনের কিছু ওষুধ ব্যবহারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে কিডনি পরীক্ষা করা যেতে পারে।
কিডনি রোগ দ্রুত শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে রোগের অগ্রগতি ধীর করার সুযোগ থাকে। তাই লক্ষণ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাই গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
কিডনি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলেও কিডনি রোগ অনেক সময় নীরবে অগ্রসর হতে পারে। তাই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা পারিবারিক ইতিহাসের মতো ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রস্রাবের পরিবর্তন, শরীর ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, প্রস্রাবে রক্ত বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সচেতনতা, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো পরীক্ষা—কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরও পড়ুন
অতিরিক্ত ঘাম হলে কী হয়? কোন রোগের লক্ষণ?
কিডনির বের্থতার প্রথম লক্ষণ কি?
FAQ
প্রশ্ন: কিডনি নষ্ট হওয়ার প্রথম লক্ষণ কী?
কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। পরবর্তী সময়ে প্রস্রাবের পরিবর্তন, শরীর ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ক্ষুধা কমে যাওয়া বা চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রশ্ন: প্রস্রাবে ফেনা হলে কি কিডনি নষ্ট হচ্ছে?
সবসময় নয়। প্রস্রাবের ফেনার অন্যান্য কারণও থাকতে পারে। তবে নিয়মিত বা দীর্ঘদিন প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা দেখা গেলে প্রস্রাব পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রশ্ন: কিডনি রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি কার?
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী, হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকা ব্যক্তি এবং কিছু অন্যান্য ঝুঁকির কারণ থাকা ব্যক্তিদের কিডনি রোগের ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
প্রশ্ন: কিডনি রোগ কি ভালো করা সম্ভব?
কিডনি রোগের কারণ ও পর্যায়ের ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। কিছু ক্ষেত্রে কারণের চিকিৎসায় কিডনির কার্যক্ষমতা উন্নত হতে পারে, আবার দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে রোগের অগ্রগতি ধীর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রশ্ন: কিডনি ভালো রাখতে প্রতিদিন কত পানি পান করা উচিত?
সবার জন্য একই পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয় না। বয়স, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর পানির প্রয়োজন নির্ভর করে। কিডনি বা হৃদরোগ থাকলে চিকিৎসকের দেওয়া পানির সীমা অনুসরণ করা উচিত।
