অবশেষে পরিবর্তন হয়ে গেল উত্তরাধিকার সম্পত্তি ভাগাভাগি পদ্ধতি
অবশেষে পরিবর্তন হয়ে গেল উত্তরাধিকার সম্পত্তি ভাগাভাগির পদ্ধতি ২০২৫
বাংলাদেশে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি বা সম্পত্তি নিয়ে ভাই বোন আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিরোধ, দখল দায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদী মামলা বহু বছর ধরে চলে আসছে। প্রায় প্রতিটি পরিবার এই ধরনের কোন না কোন জটিলতা রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের সরকার নতুন ও বাধ্যতামূলক নিয়ম চালু করেছে। এখন থেকে উত্তরাধিকার সম্পত্তি নির্দিষ্ট আইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভাগ হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ প্রতারণা বা জবরদখল করতে না পারে।
নতুন নিয়মে কি বলা হয়েছে
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সকল ওয়ারিশ সম্মিলিত ভাবে নামজারি না করলে কোন ওয়ারিশ জমি নিজের নামে নাম জারি করতে পারবেনা। যদি সবাই একত্রে নাম জানি না করতে পারে, তাহলে বন্টন নামা বাটোয়ারা মামলার নিজের প্রাপ্য অংশ আদায় করতে পারবে। এখন থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি ভাগ করতে চাইলে " আবশ্যিকভাবে আপোষ বন্টনামা দলিল " করতে হবে। এটি রেজিস্টার অফিসে রেজিস্টিকৃত হতে হবে। যাতে সবাই আইনি স্বীকৃতি পায়।
- আগে অনেক পরিবারে ভাই- বোন বা আত্মীয়দের মধ্যে মৌখিকভাবে জমি ভাগ হয়ে যেতে, কিন্তু লিখিত দলিল হত না। এখন থেকে মৌখিক বা অরেজিস্টারড চুক্তি আর বৈধ হবে না
- বন্টননামা দলিল ছাড়া জমি বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না। করলে সেটি আইনি শাস্তি হতে পারে।
- নতুন নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন,২০২৩ অনুযায়ী মামলা করে জরিমানা বা জেল পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে।
- অনেক মনে করেন, খাজনা বা নামজারি করলেই মালিক হয়ে গেলেন।কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী বন্টননামা দলিল ছাড়া নামজারি বৈধ হবে না।
- যেসব পরিবার এখনো জমি ভাগাভাগি হয়নি বা অবিভক্ত জমি রয়েছে।
- অতীতে যারা মৌখিকভাবে জমি ভাগ করেছেন, তাদের প্রথম রেজিস্টার অফিসে আইনি দলিল করতে হবে।
- যারা পূর্বপুরুষদের জমি দখলে রেখে বসবাস করেছেন কিন্তু কোন আইনি কাগজপত্র নেই, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
পুরনো নিয়ম কেন ব্যর্থ হয়েছিল?
২০০৪ সালেই প্রথম আপোষ বন্টননামা দলিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কিন্তু সচেতনতার অভাব, দুর্নীতি এবং প্রথাগত ব্যবস্থার কারণে বেশিরভাগ মানুষ তা মানেননি। হলে মামলা, প্রতারণা, দলিল জালিয়াতি ও জবর দখল বেড়ে যায়। এবার সরকার আরোও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগে ঘোষনা দিয়েছে।
পারিবারিক সম্পত্তি বন্টন কিভাবে হয়
পারিবারিক সম্পত্তি বন্টন মৃত ব্যক্তির ধর্মীয় ও পারিবারিক আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। মুসলিম আইনে ফরায়েজ বা উত্তরাধিকার আইন অনুসারে , ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করা হয়, যেখানে ছেলে ও মেয়ের অংশ অনুপাতিক হারে নির্ধারিত হয়। যেমন, ২:১।এই বন্টন প্রক্রিয়া ওয়ারিশ সনদ প্রয়োজন হয় এবং এটি আদালতের মাধ্যমে পাওয়া যায়,যা ভবিষ্যতে কোন ঝামেলা এড়াতে সাহায্য করে।
- প্রথমে মৃত ব্যক্তির বৈধ ও রিস কারা, তা চিহ্নিত করতে হয়।
- সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে ওয়ারিশ সনদ নিতে হবে,যা সম্পত্তির বন্টনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ কথা
ভূমি মন্ত্রণালয় অটোমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ১৭ টি ভূমি সেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া বিগত ১৩৮ বছর সব দলিল অনলাইনে আর্কাইভ করা হচ্ছে,যা বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে অনলাইনে দেখা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ডাউনলোড করা সম্ভব।
আরও পড়ুন
অনলাইনে জমির মালিকানা যাচাই করুন
অবশেষে পরিবর্তন হলো উত্তরাধিকার সম্পত্তি ভাগাভাগির পদ্ধতি

এটা কি নতুন নিয়ম
হ্যাঁ
নতুন নিয়ম কবে থেকে চালু হয়েছে?
নতুন নিয়ম কি সবার জন্য
নতুন নিয়ম কবে থেকে চালু হবে
চালু হয়ে গেছে।
এই নিয়মে কোন অসুবিধা নেই তো
এই নিয়মে কোনো সুবিধা আছে.?
আছে