এই সিদ্ধান্তে বিপদে পড়তে পারেন লাখো প্রবাসী।
এই সিদ্ধান্তে বিপদে পড়তে পারেন লাখো প্রবাসী।
বর্তমানে সময় প্রবাসীদের জীবন সবচেয়ে ভয়ের দুটি হল - নতুন সিদ্ধান্ত
কারণ এটি ছোট নোটিশ, একটি নতুন আইন বা হঠাৎ সরকারি সিদ্ধান্তই লাখো প্রবাসী চাকুরী, ভিসা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দিতে পারে। সম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সহ কয়েকটি দেশে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রবাসী মহলে ব্যাপক পুরোবিষয়টি পরিষ্কার ভাবে বুঝে উঠতে পারেনি। কারা বিপদে পড়বেন, কারা নিরাপদ, আর এখনই কি করা উচিত?
কী সেই সিদ্ধান্ত যা প্রবাসীদের ঝুঁকিতে ফেলেছে?
ভিসা নবায়ন করাকরি, কাজের পেশা ( Profession) যাচাই, নিয়োগকর্তার দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি, অবৈধ বা ভিন্ন কাজে নিয়োজিতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, ডাটাবেজ আপডেট ও বায়োমেট্রিক যাচাই, এই সিদ্ধান্ত মূলত নেওয়া হয়েছে অবৈধ শ্রম, ভিসা অপব্যবহার এবং কালোবাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য, কিন্তু বাস্তবে এই প্রভাব পড়েছে সাধারণ বৈধ প্রবাসীদের ওপরও।
কারা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তে পারেন?
যাদের পেশা ও কাজ এক নয়, উদাহরণ - ভিসায় লেখা ড্রাইভার, কাজ করেছেন লেবার,ভিসায় " ক্লিনার " বাস্তবে দোকানে সেলসম্যান, এরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
যাদের ইকামা / রেসিডেন্স নবায়নে দেরি
অনেকে অবহেলার কারণে বা কোম্পানির গাফিলতিতে নবায়ন করেন না। নতুন সিদ্ধান্তে জরিমানা, ডিপোর্ট এমনকি ব্ল্যাকলিস্ট হওয়ার আছে।
যাদের স্পন্সর বা কোম্পানি দূর্বল
ভুয়া কোম্পানি, কাগজ কলমে কোম্পানি, নিয়মিত ট্যাক্স/ ফি না দেওয়া প্রতিষ্ঠান, এই ধরনের কোম্পানির অধীনে থাকা প্রবাসীরা সরাসরি ঝুঁকিতে।
যাঁরা ফ্রি ভিসায় আছেন
ফ্রি ভিসা নিয়ে কাজ করা বহুদিন ধরেই ঝুকিপূর্ণ, কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তে এটি আরও বিপদজনক হয়ে উঠেছে।
যাদের ডাটাবেজ তথ্য মিলছে না
নামের বানান ভুল, পাসপোর্ট আপডেট নেই, ফিঙ্গার প্রিন্ট বায়োমেট্রিক সমস্যা, এই সব ছোট ভুল বড় সমস্যা কারন হতে পারে।
এর প্রভাব কী হতে পারে?
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রবাসীরা যেসব সমস্যা মুখোমুখি হতে পারেন–
- চাকুরী হারানো,
- ভিসা বাতিল,
- জরিমানা,
- ডিটেনশন,
- ডিপোর্ট,
- ভবিষ্যতের বিষয় নিষেধাজ্ঞা,
- সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো,
একবার ডিপোর্ট হলে অনেক সময় জীবনে আর সে দেশে যাওয়া সুযোগ থাকে না।
এখনই কী করবেন?
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিজের কাগজপত্র যাচাই করুন, ভিসার পেশা বর্তমান কাজ, ইকামার মেয়াদ, পাসপোর্ট ভ্যালিডিটি,সব মিলছে কিনা এখনই দেখুন।
কোম্পানি স্পন্সারের অবস্থা জেনে নিন
কোম্পানি বৈধ কিনা, নিয়মিত নবায়ন হয় কিনা, সরকারি পোর্টালে স্ট্যাটাস ঠিক আছে কিনা।
পেশা পরিবর্তন দরকার হলে আইনগত পথে করুন
অনেক এখন Profession change করার সুযোগ আছে। দালালের পথে নয়, আইনগত উপায়ে করুন।
গুজবে কান দেবেন না
ফেসবুক ইউটিউবে সব খবর সত্য নয়, অফিসিয়াল নোটিশ বা নির্ভরযোগ্য সূত্র দেখুন। প্রয়োজনে দূতাবাসে যোগাযোগ করুন। বিপদে পড়লে নিজ দেশের দূতাবাস আপনার শেষ ভরসা।
এই সিদ্ধান্ত শুধু খারাপ?
সত্য কথা বলতে দুই দিকই আছে।
ভালো দিক– অবৈধ চক্র কমবে, বৈধ শ্রমিকদের গুরুত্ব বাড়বে, ন্যায্য বেতন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
খারাপ দিক– নিরীহ প্রবাসীরা হয়রানি শিকার, চাকরি হারানোর ভয়, মানুষিক চাপ, মানসিক চাপ।
উপসংহার
প্রবাস জীবন এমনিতেই কঠিন, তার উপর হঠাৎ নেওয়া এইধরনের সিদ্ধান্ত লাখো প্রবাসীরা রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে। তবে মনে রাখবেন, সচেতনতা সঠিক তথ্য আর সময় মতো পদক্ষেপই পারে আপনাকে বড় বিপদ থেকে বাচাঁতে। দালালের কোন কথা বিশ্বাস করবেন না। দালাল মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে আপনাকে বিপদে ফেলবে।বলবে এক বছরের ইকামা, কোম্পানির ভিসা, এসে দেখবেন সব উল্টা। ইকামা, কোম্পানি কোন খবর নাই। তাই দয়া করে দালালের মাধ্যমে বিদেশে আসবেন না। নিজের আপন মানুষ সব থেকে বেশি ক্ষতি করে। তাই সব কিছু যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে কাজ করবেন।
বিদ্রঃ নিজে আপন মানুষ বলে আমার কাছে পাঁচটি ভিসা আছে কোম্পানির, ভালো বেতন, এই সব মিষ্টি কথায় পড়বেন না।
আরও পড়ুন

ভাই দালালদের কাছ থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যাবে?
দালালের মাধ্যমে কোন কাজ করবেন না।