লাক্ষ টাকা দিয়ে কিনলাম দুঃখ, আদম বেপারির হাতে ধ্বংস প্রবাসীর জীবন

 লাক্ষ টাকা দিয়ে কিনলাম দুঃখ – আদম বেপারির হাতে ধ্বংস প্রবাসীর জীবন 

এই দালালের কারনে হাজারো প্রবাসীর জীবন ধংশ হয়ে গেছে


বিদেশে চাকুরী, এই স্বপ্নকে পুঁজি করেই বহু বছর ধরে একটি চক্র সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। এই চক্র সবচেয়ে পরিচিত নাম আদম বেপারী। তার নাম – মোঃ মহসিন মিয়া,সেতু এন্টারপ্রাইজ, জাঙ্গালিয়া কালীগঞ্জ গাজীপুর। বর্তমানে থাকে বনানী, তার অফিস বনানী সুপারমার্কেটে সাথা মসজিদ রোড। গ্রাম শহরের সহজ–সরল মানুষ বিশেষ করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুনরা এদের মূল টার্গেট। মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিলে বাস্তবে তারা দেয় প্রতারনা, অনিশ্চয়তা, আর দুঃস্বপ্ন। 

কীভাবে তারা প্রতারনা করে

এই মহসিন মিয়ার বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দালাল আছে, তাদের মধ্যে একজন হলো আজাহান মিয়া।এই আজাহান মিয়া লোক সংগ্রহ করে অফিসে নিয়ে যায়। তারপর শুরু হয় প্রতারনা মূল কাহিনি। এখন বলবো বাস্তব জীবনে কাহিনী। চাচা আমাকে একদিন বললেন সৌদি ভালো কোম্পানির ভিসা আছে। যদি যাইতে চাও আগামীকাল ঢাকা যেতে হবে। অফিসে যাওয়া পর তাদের কথা শুনে তুমার ভালো লাগলে বিদেশে যাইবা। আমি বললাম ঢাকা কোন জায়গায় তিনি বললেন ঢাকা বনানী অফিসে। যেই কথা সেই কাজ চাচা আমাকে নিয়ে গেলো অফিসে। সেতু এন্টারপ্রাইজ, প্রোপাইটার- মো: মহসিন মিয়া, বনানী সুপারমার্কেটর সাথে। মো: মহসিন মিয়া আমাকে বলেন সৌদি আরবে ভালো কোম্পানির ভিসা আছে। কোম্পানির নামে ভিসা হবে,কোম্পানির লোক এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করবে। এক বছরের আকামা দেওয়া হবে। টাকা লাগবে ৫,০০,০০০ ( পাচ লাখ হাজার টাকা) তার মিষ্টি কথায় উপর বিশ্বাস করে রাজি হলাম। পরে আমারে ভিসা দিল লোড আনলোডের। আমি মহসিন সাহেব কে জিজ্ঞেস করলাম ভিসা কেন লোড আনলোড। তিনি আমাকে বললেন সৌদি আরবের কোম্পানি লোড আনলোড ভিসায় লোক নেয়। আমাকে আরো বলে তোমার কোম্পানির কাজ পাইলেত কোন সমস্যা নাই। সেই কথা অনুযায়ী আমি মহসিন মিয়া কে ৪,৫০, ০০০ টাকা দিলাম। পরে আমকে দুই মাস ঘুরাইয়া ফ্লাইট দিল বম্বে তানজিট। বোম্বে এয়ারপোর্ট গিয়ে ৯ ঘন্টা অপেক্ষা করলাম। পরে সৌদি আরবে ফ্লাইট দিলো।সৌদি এয়ারপোর্ট রিয়াদে সকালে পৌঁছাইলাম। সৌদি আরব আসার আগের দিন এজেন্সি থেকে একটা লোকের ফোন নাম্বার দিয়ে বললেন এটা কোম্পানির সুপারভাইজার এর নাম্বার। তার নাম মো: মাসুদ মিয়া। সকালে ঐ নাম্বারে ফোন দিলাম পরে ফোন রিসিভ করে বললেন আমি আসতেছি। পরে আমি এয়ারপোর্টে ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করলাম। পরে মাসুদ মিয়া একটি পাইভেটকার নিয়ে আসেন। পরে গাড়িতে উঠলাম।গাড়িতে ওঠার ১০ মিনিট পরে আমাকে মাসুদ মিয়া বলে ১৫০ রিয়াল দার দিতে,গাড়ির বাড়া দিবে।আমি মনে করলাম কোম্পানির সুপারভাইজার বলে কথা,তাই আমি টাকা দার দিলাম। প্রায় ৩০ মিনিট গাড়ি চলার পর  একটি ছোট রুমে নিয়ে আসলো। সেই ছোট্ট রুমে তিনটি দোতলা বেট।সব বেটে লোক আছে। আমার লাকিস,বেগ রুমে বাহিরে রাখলাম। মাসুদ মিয়া আমাকে বলল রুমে লোক ঘুমায় তারা রাতে ডিউটি করেছে রুমে এখন যাওয়া যাবে না। ফ্লাইট ট্রানজিট দেওয়ার কারণে একরাত একদিন আমি খুব ক্লান্ত। রুমের বাহিরে একটি পাকের ঘর আছে সেখানে সারাদিন রইলাম, পরে মাসুদ মিয়া আমাকে বলল চলো খাবার খেতে যাব, একটি হোটেলে নিয়ে গেল, সেখানে খাবার খাওয়ার পর আমাকে বলল বিল দেও। সেই কথা অনুসারে খাবারের বিল দিলাম। মাসুদ মিয়া আমাকে বলল রুমে গিয়ে তোমার সব টাকা হিসাব করে দিয়ে দিব। 

এখানে একটি কথা বলে রাখা ভালো, দেশ থেকে বলেছিলেন মাসুদ মিয়া কোম্পানির সুপারভাইজার। আসলে সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। সে কোন কোম্পানিতে কাজ করে না। সে হলো দালাল। দুইদিন পর মাসুদ মিয়া আমাকে অন্য একটি দালালের রুমে দিয়ে আসে।তার নাম হলো মো: মনির মিয়া। এবং বলে এই লোকে তুমাকে কাজ দিবে। দিয়ে আসার সময় আমি মাসুদ মিয়ার কাছে আমার পানা টাকা চাইলাম। সে বলল পরের দিন এসে টাকা দিবে।কিন্তু  আমাকে আর টাকা দেয় নাই। 

আমি নতুন মানুষ আমার কোন রিয়াল নাই। দ্বিতীয় দালালের রুমে থাকলাম এক মাস।এক মাস পরে দ্বিতীয় দালাল তৃতীয় দালালের রুমে দিয়ে আসে সেখানে থাকলাম ২০ দিন। এইভাবে চলে গেল তিন মাস। আমি আমার বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার এনে এই তিন মাস চললাম। এরপর সমস্ত ঘটনা ঢাকা বনানী মোঃ মহসিন মিয়াকে ফোন দিয়ে জানালাম। আমি বললাম, কোন কোম্পানির খবর নাই, কোন ইকামা নাই, কোন কাজ নাই, দালাল আমাকে রুম থেকে বের করে দিয়েছে। আমি বাংলাদেশের দালাল মহসিন মিয়া কে বললাম আপনার কথার কাজে মিল নাই। প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে। সে আমাকে বলিলেন তুমি আমার বালফালায়া দিও। এইভাবে হাজারো প্রবাসীর জীবন ধ্বংস হয়ে যায় দালালদের কারণে। 

আদম বেপারি কারা

আদম বেপারি মূলত সেইসব দালাল বা এজেন্ট, যারা বৈধ ও অবৈধ পথে বিদেশে চাকরি দেওয়ার নাম করে মানুষ পাঠায়। অনেক সময় তারা নিজেকে রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি, বিদেশে থাকা আত্মীয়, কিংবা সরকারি লোকের পরিচিত বলে দাবি করে বিশ্বাস যোগ্যতা তৈরি করে।

উপসংহার 

দালালের মাধ্যমে কেউ বিদেশে আসবেন না। মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে দালাল আপনাকে বিপদে ঠেলে দিবে। বলবে কোম্পানির কাজ, কোম্পানির কোন খবরই থাকবে না।কিস্তিতে বা লোন নিয়ে দালাল ও এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে আসবেন না । 

আরও পড়ুন 

বাংলাদেশ সবচে জনপ্রিয় ব্যক্তি কে


দালালের কারনে প্রবাসীর জীবন ধংশ 


FAQ 

প্রশ্নঃ বাংলাদেশের দালাল কিভাবে প্রবাসীর জীবন ধংশ? 

উত্তর : মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে।

প্রশ্নঃ এজেন্সির মালিকরা কি প্রতারণা করে?

উত্তরঃ সব থেকে বেশি প্রতারণা করে এজেন্সির মালিকরা। 



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url