জাহান্নামের সাত দরজা ও স্তর: কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী বিস্তারিত আলোচনা
জাহান্নামের সাত দরজা ও স্তর: কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী বিস্তারিত আলোচনা।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল কারিমে জাহান্নামের কথা উল্লেখ করেছেন, যা পাপীদের জন্য ভয়ংকর শাস্তির স্থান। আল্লাহ বলেন,
নিশ্চয়ই জাহান্নামের জন্য সাতটি দরজা আছে। এবং প্রতিটি দরজার জন্য নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে। - সূরা আল- হিজরি ( ১৫:৪৪)
কুরআন ও হাদিসে উল্লেখিত জাহান্নামের সাত দরজা ও স্তর সম্পর্কে জানুন। কোন দরজায় কোন গুনাগার যাবে এবং কী শাস্তি ভোগ করবে- এইসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
জাহান্নামের স্তর কয়টি ও কী কী?
1 জাহান্নাম
এটি হলো জাহান্নামের মূল নাম। এখানে সাধারণ গুনাগার মুসলমানরা শাস্তি ভোগ করবে। যাদের আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করবেন, আর চাইলে শাস্তি দেবেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।
2 লাযা
লাযা হলো জাহান্নামের দ্বিতীয় দরজা।এটি অহংকারী ও সম্পদ নিয়ে গর্ভকারীদের জন্য নির্ধারিত। যারা নিজেদের ধন সম্পদ নিয়ে দুনিয়ার দম্ভ করেছে এবং আল্লাহর নিয়ামতে শোকর আদায় করেনি, তারা এইখানে শাস্তি পাবে।
3 আল-হুতামা
এই স্তরে প্রবেশ করবে তারা, যারা অনেক হেয় করেছে, গীবত করেছে,পরনিন্দা করেছে এবং মানুষের সম্মান নষ্ট করেছি। " হুতামা " অর্থ ভেঙ্গে চূর্ণ করে দেওয়া। এখানে আগুন এত প্রবল হবে যে পাথরও ভস্মীভূত হবে।
4 সাঈর
সাঈর মানে জ্বলন্ত আগুন। এই দরজা কাফের ও মুশরিকদের জন্য, যারা আল্লাহকে অস্বীকার করেছে এবং শিরক করেছে। কোরআনে আল্লাহ বারবার " সাঈদ " এর উল্লেখ করেছেন কাফেরদের জন্য চিরস্থায়ী শাস্তির স্থান হিসেবে।
5 সাকার
শাকার হলো এমন এক দরজা যেখানে নামাজ ত্যাগকারিরা প্রবেশ করবে। কুরআনে বলা হয়েছে, কি কারনে তোমরা সাকারে প্রবেশ করছো? তারা বলবে, আমরা নামাজ আদায় করতাম না, গরিবদের খাদ্য দিতাম না। — সূরা আল - মুদ্দাসসির ( ৭৪:৪২-৪৪)
6 জাহীম
জাহীন হলো অগ্নি প্রজ্বলিত এক দরজা, যেখানে প্রবেশ করবে তারা যারা দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের মও থেকে আল্লাহকে অস্বীকার করেছে। কুরআনে বারবার " জাহীন " এর উল্লেখ আছে কাফের ও গুনাগারদের জন্য।
7 হাবিয়াহ
এটি জাহান্নামের সবচেয়ে নিচু স্তর। এইখানে প্রবেশ করবে মুনাফিকরা ( অন্তরে কাফের , বাহিরে মুসলমান)। আল্লাহ বলেন : " নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সবচেয়ে নিচু স্তরে থাকবে " — সূরা আল - নিসা ( ৪:১৪৫)
— আমীন।
জাহান্নামের সর্বনিম্ন আজাব কী?
সূত্র : বুখারী ও মুসলিম। জাহান্নামের সর্বনিম্ন শাস্তি, জাহান্নামে যাকে সব চেয়ে কম শাস্তি দেওয়া হবে, তাকে জাহান্নামের দুটি স্যান্ডেল পরিধান করানো হবে যার ফিতাদ্বয় হবে আগুনের। এর উত্তাপে তার মাথার মগজ ফুটন্ত পানির ন্যায় টগবগ করতে থাকবে।
কুরআনে জাহান্নামের শাস্তি
কুরআন অনুযায়ী জাহান্নামের শাস্তি অত্যন্ত ভয়াব এবং বিভিন্ন ধরনের হবে, যার মধ্যে রয়েছে আগুনের পোশাক, পানীয়,ফুটন্ত পানি, এবং শারীরিক যন্ত্রণা। পাপীদের শরীর হবে agony, যার মধ্যে রয়েছে চামড়া পুড়ে যাওয়া, চোখ হীনতা, এবং টানা। এই শাস্তিগুলো পাপের তীব্রতার উপর নির্ভর করে এবং জাহান্নামের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান।
- পাপীদের আগুনের পোশাক ও স্যান্ডেল পড়ানো হবে, যা তাদের শাস্তি দেবে এবং তারা ফুটন্ত বা গরম পানি পান করবে।
- তাদের শরীর হবে agony, যেমন চামরা পুড়ে যাওয়া এবং নতুন চামড়া তৈরি হওয়া, যা তাদের যন্ত্রণাকে দীর্ঘস্থায়ী করে।
- তাদের চোখ থাকবে না এবং পা হবে দানা।
- তাদেরকে বলদের খুর, ছাগলের কান এবং কুকুরের মুখ দেওয়া হবে।
- ফুটন্ত সালফারের স্রোত বয়ে যাবে, যা তাদের যন্ত্রণা দিতে থাকবে।
- শাস্তিগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ এবং তীব্র হবে। জাহান্নামের সর্বনিম্ন শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির তার মাথার মগজ ফোটানো হবে।
জাহান্নামের চিৎকার
জাহান্নামে হাশরের মাঠে কাফেরদের দেখে ক্রোধে ফেটে পড়বে এবং তার ক্রুদ্ধ গর্জন ও ভয়ংকর চিৎকার শুনতে পাওয়া যাবে। যখন জাহান্নামে প্রবেশকারীদের উপর আগুনের শিখায় স্পর্শ করবে, তখন তারা উচ্চস্বরে চিৎকার করে উঠবে। হাদিসে আসছে যে, জাহান্নামে প্রবেশকারীদের মধ্যে দুই ব্যক্তি এমনভাবে চিৎকার করবে যে আল্লাহ তাআলা তাদের ভের করে আনার নির্দেশ দেবেন। অপরাধীরা যখন তাদের শাস্তির যন্ত্রণা অতিষ্ঠ হবে, তখন তারা জাহান্নামের মালিক ফেরেশতাকে চিৎকার করে অভিশাপ দেবে এবং শয়তানকে অভিশাপ দিতে থাকবে।
জাহান্নামের আয়াত
কোরআন ও হাদিসে জাহান্নামের ভয়াবহননা করে অনেক আয়াত ও হাদিস রয়েছে। জাহান্নাম হল পাপীদের চূড়ান্ত আবাসস্থল। যেখানে তাদের আগুনে পুড়তে হবে। কোরআনে " আল বাক্বারাহ " সূরা আল-হুমাযা " সূরা এবং " যারিয়াত" জাহান্নামের উল্লেখ্য আছে। হাদিসের জাহান্নামীদের শাস্তি, চামড়া পূরত্ব, আগুনের সাপ ও বিচ্ছু ভয়াবহতার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
ইসলামিক জ্ঞান অর্জনের উপায়
- ইসলামিক জ্ঞান অর্জনের জন্য আরবি ভাষা শিক্ষা, কোরআন ও হাদিস পাঠ, আলেমদের সঙ্গে আলোচনা শোনা, ইসলামিক বই পড়া এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠান থেকে জ্ঞান অর্জন করা জরুরী।
- কুরআনের সঠিক অর্থ বুঝেতে হলে পারবি ভাষা শেখা অপরিহার্য। এতে করে সরাসরি কুরআন পাঠ করা ও তার মূলভাব বুঝা সহজ হয়।
- প্রতিদিন কুরআন ও হাদিস পাঠ করা আবশ্যক। এ দুটি হল ইসলামিক জ্ঞানের মূল উৎস।
- জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ রেখে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, জ্ঞান অর্জনের জন্য সহায়ক হতে পারে।
- প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জ্ঞান অর্জন করা একটি ফরজ বিধান।
- সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামিক বিধান অনুযায়ী সঠিকভাবে জীবন যাপন করার জন্য জ্ঞান অর্জন জরুরী।
উপসংহার
জাহান্নামের এই সাতটি দরজা আমাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে গুনাহ থেকে বাঁচার তাওফিক দিন। এবং জান্নাতুল ফেরদাউসের স্থান দান করুন।
আপনার অভিজ্ঞতা বা প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান।
নামাজ পড়তেই হবে, না পড়ে কোন উপায় নাই।
আরও পড়ুন
মঙ্গলবারে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
অনলাইনে জমির মালিকানা যাচাই করার পদ্ধতি


আল্লাহু আকবার, পরে হৃদয় কেঁপে গেল।
আমিন🤲
জাহান্নাম খুবই ভয়ংকর 😭
হ্যাঁ
👉 "অসাধারণ পোস্ট ✨ কুরআন ও হাদিসভিত্তিক এধরনের আলোচনা আমাদের জন্য সত্যিই শিক্ষণীয় ও সতর্কতামূলক। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নেক আমল করার তাওফিক দিন। 🤲"
Amin
আমিন 🤲
♥️
যারা জাহান্নাম কে ভয় করে তারা কখনো খারাপ কাজ করতে পারে না😥
ঠিক বলেছেন