মাদকাসক্তি কারণ ও প্রতিকার

 মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি উপায়ে এবং নিরাময় কেন্দ্র ২০২৫



প্রথম কথা 

বর্তমানে সময়ে মাদকাসক্তি এক ভয়াবহ বৈশিষ্ট্য সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। অপার সম্ভাবনায় তরুণ সমাজের জন্য মাদকাসক্তি এখন একটি মরণফাঁদ।এই ঘাতক ব্যাধিতে আসক্ত হওয়ার ফলে সমাজ হচ্ছে কলুষিত এবং দেশ,জাতি ও পৃথিবীর জন্য অপেক্ষা করছে মর্মান্তিক পরিণতি। তাই একটি সুন্দর পৃথিবীর জন্য, আলোকিত আগামীর জন্য মাদকাসক্তির মতো মরণথাবা থেকে তরুণ ও যুব সমাজকে রক্ষা করা একটি অবশ্যকর্তব্য বিষয়। 

মাদকাসক্তি কিঃ

মাদক দ্রব্য হলো প্রাকৃতিকভাবে অথবা রাসায়নিকভাবে উৎপন্ন পদার্থ যা নেশা তৈরি করে। এইসব পদার্থ যারা সেবন করে তাদেরকে মাদকাসক্ত বলা হয়। মাদকাসক্তি এমন এক নেশা যাতে একবার জড়িয়ে পড়লে, তার থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া যায় না। এর পরিণতি অকাল মৃত্যু। সিগারেট, মদ, গাঁজা, ভাং,আফিম, ইয়াবা,ফেনসিডিল, হেরোইন, প্যাথেড্রিন,মরফিন, কোকেন,চরস, পপি,মারিজুয়ানা,ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য। এগুলো বেচাকেনা বাংলাদেশে অবৈধ। তার সত্বেও গোপনে বাংলাদেশ বিভিন্ন অঞ্চলে এগুলো কেনা বেচা চলে। তরুণ সমাজ বড় একটি অংশ এসব মাদক গ্রহণের মধ্যে দিয়ে নিজেদের ধ্বংস করার খেলায় মেতে ওঠে। 

মাদকাসক্তি নিয়ে উক্তিঃ

মাদকের উৎস বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মাদক উৎপাদিত হয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি অসাধু মুনাফালোভী বিশাল চক্র।মাদকে প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন,চোরাচালানও হয় অনেক দেশে। 

মাদকাসক্তির কারণঃ

জীবনের হতাশ ও দুঃখবোধ থেকে সামাজিক স্বস্তি লাভের আশায় মানুষ প্রথমবার মাদক গ্রহণ করতে আগ্রহী হয়। অনেকে অন্যার পরোচনায় মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে। তবে যে ভাবেই হোক কেউ একবার মাদক গ্রহণ করলে সে আসক্তি থেকে বের হওয়া তার পক্ষে কঠিন হয়। সেই সুযোগে বিপথগামী কিছু মানুষ এবং বহুজাতিক মাদক সংস্থাগুলোর অবৈধ অর্থের রমরমা  ব্যবসা চালিয়ে যেতে থাকে। এইসব খারাপ লোকের চেষ্টায় বর্তমানে বাংলাদেশে মাদকাসক্ত লোকের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। দিন দিনের সংখ্যা বাড়ছে। 

মাদকাসক্তি ক্ষতি কি কিঃ

মাদকে আসক্ত ব্যক্তির বিবেকবুদ্ধি লোক পায়, ক্ষুধা তৃষ্ণার অনুভূতি কমে যায়, নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়, দেহের ওজন কমতে থাকে, হাসি কান্নাবোধ ও বিচার বুদ্ধি থাকে না। একপর্যায়ে সে জীবন্মৃত অবস্থায় পৌঁছে যায়। মাদকের মূল্য বেশি হওয়ার খুব অল্প দিনেই মাদকাসক্তির সঞ্চিত অর্থ ফুরিয়ে যায়। তখন তারা অবৈধ উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করার চেষ্টা করে। ক্রমে চুরি ডাকাতি ছিনতাইসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে। মাদকাসক্তি ব্যক্তির এইভাবেই নিজেদের শারীরিক মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবারের সমাজের সুস্থতা ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে গোটা সমাজে প্রথম ধরতে শুরু করে। মাদকাসক্ত ব্যক্তির পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের কারণ হয়। অশান্তির জের ধরে বহু মাদকাসক্ত এক পর্যায়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেই। এছাড়া সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, মাদকাসক্ত নারী -পুরুষের মধ্যে ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সের লোক বেশি। অথচ দেশের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য এই বয়সী লোকের সবচেয়ে উপযুক্ত। 

মাদকাসক্তি প্রতিরোধের উপায়ঃ

মাদকাসক্তির সর্বনাশ প্রভাব থেকে মানুষকে বাঁচার জন্য বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে। সকালেই ভাবছেন, কেমন করে এর করাল গ্রাস থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করা যায়। ইতিমধ্যে দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে। বাংলাদেশও মাদক বিরোধী একাধিক সংগঠন কাজ করছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রচার মাধ্যম গুলোতে মাদক গ্রহণ ও বিস্তার প্রতিরোধ ব্যাপক কার্যক্রম চালু আছে। এদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। 

মাদকাসক্তি ব্যক্তির চিকিৎসা কিঃ

এদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মাদকের হাত থেকে দেশের যুবসমাজকে বাঁচাতে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হলো প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এবং সেখানে বেকারদের কাজের ব্যবস্থা করা। অন্তত বেকারত্বের হতাশ থেকে যেসব মাদকাসক্তির ঘটনা ঘটে, এর ফলে তা দূর হবে। 

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সাইকোলজিস্ট, সাইকোথেরাপিস্ট,পরিবার,স্বজন শিক্ষক,আর প্রকৃতভাবে বন্ধু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 

মাদকাসক্তির নিরাময় কেন্দ্রঃ

চিকিৎসা কেন্দ্রের তালিকা....

  • প্রমিসেস মেডিকেল লিঃ  বাড়ি নং ১৭, রোড নং ২০,ব্লক জে,বারিধারা ঢাকা। ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সোহেল হোসেন খান -০১৬২২৯৯৭৭৬৬
  • প্রত্যয় মেডিকেল ক্লিনিক লিঃ প্লট নং ১৩,রোড নং ২০,ব্লক জি,বারিধারা, আবাসিক এলাকা বনানী ঢাকা। চেয়ারম্যান জনাব, নাজমুল হক -০২৯৮৫৮০৮৮
  • গাইডেন্স মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, বাড়ি, ১৫,সড়ক ০৮,নিকুঞ্জ -২,খিলখেত ঢাকা। পরিচালক, জনাব,শফিকুল ইসলাম -০১৯৮৯১৮২৭১৬
  • অর্জন, মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পূর্ণবাসন কেন্দ্রঃ বাড়ি খ/৪৯/ই,লেক সিটি রোড, আমতলা, খিলখেত ঢাকা। জনাব, অভিষেক প্রসাদ - ০১৭১৯৪৩১৯০৭
  • মেসার্স অফ লাইফ, মাদকাসক্তি পূর্ণবাসন, সহায়তা ও পরামর্শ কেন্দ্রঃ ১১২/০১ দক্ষিণ বাড্ডা, গুলশান ঢাকা ১২১২ পরিচালক জনাব, সৈয়দ শামীম হোসেন -০১৬৭৬২৯৯৮৭৭
  • প্রশান্তি, মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পূর্ণবাসন কেন্দ্রঃ ৫২/এ,উওর গোড়ান,সিপাহী বাগ,খিলগাঁও ঢাকা। ব্যবস্থা পরিচালক জনাব এম খোরশেদ আলম -০১৭১১৭৩৭৫৭৮
  • রিটার্ন, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রঃ৩৪১ পশ্চিম, রামপুরা, ঢাকা। চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আলতাফ হোসেন খান -০১৬১৪৫৬৬৬৬৬
  • উৎসব, মাদকাসক্তি পূর্ণবাসন নির্বাসঃ ১০৯৭,শেখদি,যাত্রাবাড়ী ঢাকা। চেয়ারম্যান জনাব, আরিফুর রহমান -০১৬৭০৩২২২২২

  • হোলিকেয়ার, মাদকাসক্তির নিরাময় কেন্দ্রঃ ১নং চামেলীবাগ,শান্তিনগর,মালিবাগ, ঢাকা। পরিচালক জনাব, নাজিমুদ্দিন -০১৯২১১৬৯৯৬৬

উপসংহার 

মাদকাসক্তির কারণে সমাজের কোন এক জায়গায় অশান্তি সৃষ্টি হলে, সেই অশান্তি গোটা সমাজকে গ্রাস করতে পারে। তাই মাদকাসক্তিকে বিচ্ছিন্ন কোন বিষয়ে মনে করলে চলবে না। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, তারা যদি সুস্থতার মধ্যে দিয়ে বড় হয়, তাহলেই তারা সুস্থ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে, অন্যথায় নয়। তাই মাদকের গ্রাস থেকে দেশ ও সমাজকে বাঁচাতে হবে।

আরও পড়ুন  

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url