জুমার রাত ও দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১০ আমল
জুমার রাত ও দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১০ আমল ২০২৫
জুমার দিন শ্রেষ্ঠ দিন। সপ্তাহের ঈদের দিন। ইসলামে এ দিনের মর্যাদা রয়েছে। সব দিনের মধ্যে ঝুমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন আল্লাহ তা'আলা। কোরআন ও হাদিসে এই দিনের বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার কথা বলা হয়েছে।
জুমার দিনের আমল ও ফজিলত
হরযত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, আল্লাহ তায়ালা আগের জাতিগুলোর কাছে জুম্মার মর্যাদা অজ্ঞাত রাখেন। তাই ইহুদীরা শনিবার নির্ধারণ করে। আর খ্রিস্টানরা রবিবার নির্ধারণ করে। ফতেপুর আমরা আসি। আমাদের কাছে তিনি জুমার দিনের মর্যাদা প্রকাশ করেন। ( মুসলিম, হাদিস ৮৫৬)
যে কারণে জুমার দিন শ্রেষ্ঠ
ইসলামিক ইতিহাসের জুমার দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হযরত আবু লুবাবা বিন আব্দুল মুনজির রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. জুমার দিন শ্রেষ্ঠ হওয়ার পাঁচটি কারণ উল্লেখ্য করেছেন -
আল্লাহ তায়ালা এই দিনের প্রথম মানব হরযত আদম আ. কে সৃষ্টি করেছেন।
জুমার দিনে আদম আ. কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন।
এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা কবুল করবেন।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এই দিনে কেয়ামত সংগঠিত হবে। (ইবনে মাজার, হাদিস ৮৯৫)
জুমার দিনের শ্রেষ্ঠ আমল
- জুমার নামাজ
- জুমার দিন গোসল করা
- মসজিদে সবার আগে যাওয়া
- জুমার দিন দোয়া কবুল হয়
- সূরা কাহাফ এর ফজিলত
- দুরুদ শরীফের ফজিলত
জুমার দিনের আমলঃ
হাদিসগুলো পর্যালোচনা করলে বুঝা যায়, জুমার দিনের কিছু কাজে সাওয়াব মিলে। যেমন, নখ কাটা, গায়ের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা, উত্তম রূপে গোসল করা, উত্তম পোষাক পরিধান করা, সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যদি তার নিকট থাকে। তারপর জুমার নামাজে আসে এবং অন্য মুসলিমদের গায়ের উপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না যায়। নির্ধারিত নামাজ আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে আম পর্যন্ত চুপ করে থাকে। তাহলে তার এই আমল পূর্ববর্তী জুম্মার দিন জুমা পর্যন্ত সবগিরা গুনাহ জন্য কাফফারা হবে। ( আবু দাউদ, হাদিস ৩৪৩)
মহিলাদের শুক্রবারের আমলঃ
শুক্রবারে জুমার দিন, ফজিলতের দিন, এই দিনে পুরুষের মতো কর মহিলা ও বিশেষ কিছু আমল রয়েছে। আমল গুলো করার মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়ই সমান ফজিলত লাভ করবেন। তবে যে আমলগুলো মসজিদে যাওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সেগুলো মূলত পুরুষের জন্য। বাকি আমলগুলো রয়েছে আর সবগুলিই নারী পুরুষ সকলেই করতে পারে। গোসল করা, বেশি বেশি দরুদ পাঠ, সূরা কাহাফ তেলাওয়াত, নখ কাটা ইত্যাদি
জুমার দিনে বিশেষ ১১ টি আমল:
বেশি ইবাদত করাঃ
মহান আল্লাহ তাঁ'আলা বান্দার ইবাদতের জন্য জুমার দিনকে নির্বাচন করেছেন। তাই এই দিনে একটু বেশি ইবাদত করা উচিত।
মাগরিব ও এশার বিশেষ কিরাতঃ
জুমার রাতে মাগরিবের নামাজের সূরা কাফিরুন, ও সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করা আর এশার নামাজে সুরা জুমা ও সূরা মুনাফিকুল তেলাওয়াত কথা হাদিসে বর্ণিত রয়েছে।
রাতে সূরা দুখান তেলাওয়াতঃ
জুমার রাতে সূরা দুখান তেলাওয়াত করা। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. বলেন যে ব্যক্তি জুমাটাতে সূরা দুখান তেলাওয়াত করে আল্লাহ তাঁআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।
ফজর নামাজে বিশেষ কিরাতঃ
জুমার দিনে ফজরের ফরজ নামাজের প্রথম রাকাতে সূরা সিজদা আর দ্বিতীয় রাকাতে সূরা দাহর তেলাওয়াত করা। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. জুমার দিন ফরজ নামাজের প্রথম রাকাতে আলিফ লাম মিম তানজিল (সুরা সিজদা) আর দ্বিতীয় রাকাতে হাল আতা আলাল ইনসানি হি-নুম মিনাদ দাহরি লাম ইয়াকুন শাইয়াম মাযকুরা ( সুরা আদ-দাহর) তেলাওয়াত করতেন। ( বুখারি, হাদিস : ৮৫১,মুসলিম হাদিস : ২০৭২)
সূরা কাহফ তেলাওয়াতঃ
জুমার দিন সূরা কাফহ তেলাওয়াত করা। আবু হুরায়রা রা. নবী সা. বলেন,যে জুমার দিন সূরা কাফহ তেলাওয়াত করে তার জন্য দুটি জুমা মধ্যবর্তী সময় বিশেষ আলোধারা আলোকিত হয়। ( সুনানুল - বায়হাকি আল - কুবরা, হাদিস : ৫৭৯২)
কিয়ামতের ভয়াবহ স্মরণঃ
জুমার দিন কেয়ামত সংগঠিত হবে।এইজন্য প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য তে কিয়ামতের ভয়াব স্মরণ করে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করা উচিত। আবু লুবাবা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সা. জুমার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন, জুমার দিন কেয়ামত সংঘটিত হবে। প্রত্যেক সম্মানিত ফেরেশতা, আকাশ, জমিন, বাতাস, পাহাড়- পর্বত ও সমুদ্র সব কিছুই জুমার দিন ভীতসন্ত্রস্ত থাকে। ( ইবনু মাজার,হাদিস : ১০৮৪)
দরুদ পাঠঃ
সকাল বিকাল সময় করে রাসুলুল্লাহ সা. এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উচিত। আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ রা. বলেন, জুমার দিন তোমরা আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।কেননা এটি উপস্থিতির দিন। এদিনে ফেরেশতারা (আল্লাহর বিশেষ রহমত) নিয়ে উপস্থিত হয়। তোমাদের যে কেউ আমার প্রতি দরুদ পাঠ করে তার দুরূদ আমার কাছে পেশ করা হয় ততক্ষণ পর্যন্ত সে দুরুদ থেকে অবসর না হয়।
দান সদকাঃ
জুম্মার দিন সাধ্যমত দান সদকা করা উচিত। এ দিনে দান সদগা অন্য দিনের চেয়ে ফজিলত পূর্ণ। কা'ব রা. বলেন, আমি কি তোমাদের জুমার দিন সম্পর্কে বলবো না? জুমার দিন দান সদকা করা অন্যান্য দিন দান সদকা করাচ্ছে অতি উত্তম।
পিতা মাতার কবর জিয়ারতঃ
পিতা-মাতা মারা গিয়ে থাকলে কমপক্ষে জুম্মার দিন তাদের কবর জিয়ারত করা উচিত। মোহাম্মদ ইবনে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন,নবী সা. বলেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক জুম্মার দিন তার পিতা-মাতা অথবা কোন একজনের কবর জিয়ারত করে হয় এবং সে পিতা-মাতার আনুগত্যশীল হিসেবে পরিগণিত হয়।
শুক্রবারে দোয়া কবুলের আমলঃ
আসর থেকে মাগরিব দোয়া - মোনাজাত
জুমার দিন আসরের পর থেকে মাগরিব নামাজের অপেক্ষায় থেকে মাগরিব পর্যন্ত আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও কল্যান প্রার্থনা করলে তা কাবুলের আশা করা যায়।
আজ শুক্রবার ২২ শে আগস্ট ২০২৫, ৭ ভাদ্র ১৪৩২ বাংলা, ২৭ সফর ১৪৪৭ হিজর, চলুন দেখি নি আজকে নামাজের সময়সূচীঃ
জোহর --শুরুঃ ১২.০৩
আসর-- শুরুঃ ৪.৩৫
সূর্যাস্ত --৬.১২
মাগরিব -- শুরুঃ ৬.২৮
এশা -- শুরুঃ ৭.৪৫
উপসংহারঃ
সময় মত নামাজ পড়া প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উপর ফরজ। এজন্য নামাজের সময় কখনো শুরু হয় এবং কখন শেষ হয় তা প্রত্যেক মুসলমানের জানা জরুর। যেন সময় শেষ হওয়ার আগেই নামাজ আদায় করা যায়। ইসলামিক ইতিহাসের জুমার দিন কি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা চেষ্টা করব জুমার দিন বিশেষ আমল গুলো করার।
আরও পড়ুন
মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী--
