BCS প্রস্তুতি: সফলতার জন্য সম্পূর্ণ গাইড
BCS প্রস্তুতি : সফলতার জন্য সম্পূর্ণ গাইড
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস ( BCS) প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মতো অন্যতম কঠিন এবং জনপ্রিয় পরীক্ষা। BCS পরীক্ষার সফলভাবে পাস করতে হলে সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিক অধ্যায়ন, এবং সঠিক ট্রাটেজি জরুরী। এই পোস্টে আমরা বিস্তারিতভাবে BCS প্রস্তুতি , সময় ব্যবস্থাপনা, এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করব।
বিসিএস প্রস্তুতি কিভাবে শুরু করব
- বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মোট অংশ নেয়া,দের মধ্যে থেকে মাত্র ৫% থেকে ১০% প্রার্থীকে পাস করানো হয়। তাই এই পরীক্ষা উত্তীর্ণ হতে হলে নিতে হবে একটি গোছানো ও যথাযথ প্রস্তুতি।
- সর্বপ্রথম পিএসসি বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসটি ভালোভাবে আত্মস্থ করুন।
- যেসব বিষয়ভিত্তিক পপিকে আপনার দুর্বলতা আছে এবং সেই সব বিষয়ভিত্তিক টপিকে আপনার বিশেষ দক্ষতা আছে সেগুলো চিহ্নিত করুন।
- কোন টপিকগুলো পড়তে হবে তা জানার পাশাপাশি কোন টপিকগুলো বাদ দিতে হবে এই সম্পর্কে জানুন।
- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টপিকগুলো আত্মস্থ করার জন্য একটি লিখিত রুটিন প্রস্তুত করো।
- বিসিএস প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় বুকলিস্ট তৈরি করুন।
- ইংরেজি ও গণিত অংশের বিষদ প্রস্তুতি নিন।
- পড়ার পাশাপাশি নিজের তেজ যাচাই করার জন্য বেশি মডেল টেস্ট পরীক্ষা দিন।
- কার্যকরী কৌশলী উপায় অবলম্বন করুন, শর্টকাট পরিহার করুন।
- একটি স্মার্ট রিভিশন অনুসরণ করুন, পূর্বের পঠিত বিষয়গুলোকে এই সার্কেলের মাধ্যমে বারবার রিভিশন দিন।
BCS পরীক্ষার ধরন
BCS পরীক্ষা মূলত তিনটি অংশে অনুষ্ঠিত হয় :
1. প্রিলিমিনারি ( preliminary)
2. লিখিত পরীক্ষা ( Written Test)
3. মৌখিক পরীক্ষা ( Viva Voce)
প্রথমেই পরীক্ষার সিলেবাস ভালোভাবে পড়তে হবে। কোন বিষয় থেকে কত নম্বর আসবে এবং কোন অংশে বেশি গুরুত্বপূর্ণ— এগুলো পরিষ্কার ধারণা রাখুন।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি
প্রিলিমিনারি একটি MCQ ( Multiple Choice Question) ভিত্তিক পরীক্ষা।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে মূল পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা পাবেন।
নিয়মিত কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়ুন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খবর, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পরিবেশ ইত্যাদি।
সাধারণ জ্ঞান, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক ভালোভাবে ঝালাই করুন।
ইংরেজি ও গণিতে বেসিক অনুশীলন করুন।
পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করুন।
লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি
এটি লিখিত পরীক্ষা অংশই আসল মূল ধাপ।এখানে উত্তর দেওয়ার ধরন, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও ভাষাগত দক্ষতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।
সাধারণ জ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি, এবং নীতি বিষয়ক প্রশ্ন থাকে।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে লেখা চর্চা কর।
বাংলা ও ইংরেজি রসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিক লিস্ট তৈরি।
বিষয়ভিত্তিক নোট বানিয়ে রাখুন
মডেল টেস্ট অংশ নিন।
মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি
- লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে কেবল নির্বাচিত প্রার্থীরা মৌখিক পরীক্ষা অংশ নেন। ভাইবা বোর্ডে শুধু জ্ঞান নয়, ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও উপস্থাপনার ক্ষমতাও যাচাই করা হয়।
- নিজের একাডেমিক ও পার্সোনাল প্রোফাইল ভালোভাবে ঝালাই করুন।
- চলমান ঘটনা ও সময় স্বামী কিছু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখুন।
- ভদ্র ও আত্মবিশ্বাসী আচরণ বজায় রাখুন।
- আয়নার সামনে প্যাকটিক্স করুন অথবা গ্রুপ ফোনের অংশ নি।
BCS প্রস্তুতির জন্য সময়সীমা
- প্রাথমিক ধাপ — BCS পরীক্ষার প্রতিটি অংশের জন্য সাপ্তাহিক এবং দৈনিক পরিকল্পনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সময় ব্যবস্থাপনা — দীনি অত্যন্ত ৪ থেকে ৬ ঘন্টা নির্দিষ্ট সময় অধ্যায়ন করা।
- Revision — সপ্তাহে অত্যন্ত একবার অধ্যায়নের পুনরালোচনা করা।
প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
প্রিলিমিনারি প্রস্ততি
সাধারণ জ্ঞান ( General knowledge) — বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক।
current affairs — দৈনিক খবরের সংক্ষেপ পড়া। দৈনিক সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল, এবং মাসিক ব্যবহার করুন।
মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখুন
- হতাশ হবেন না, ধৈর্য ধরুন।
- সুস্থ দেহ ও মন বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম, ব্যায়াম ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
- ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলুন।
সহায়ক বই ও উপকরণ
- BCS প্রকাশনী, MP3 গাইড, Oracle ইত্যাদি জনপ্রিয় বইগুলো পড়ুন।
- দৈনিক পত্রিকা ও মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিন পড়ুন।
- ইউটিউব, অনলাইন কোর্স ও ব্লক থেকে বিষয়ভিত্তিক ধারণা নিন।
বিসিএস পরীক্ষার আবেদনের যোগ্যতা
আপনি চার বছরের অনার্স পাশ হলেই জেনারেল ক্যাডারে আবেদন করতে পারবেন। তবে আপনি যদি তিন বছরের পাস কোর্সে পড়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই মাস্টার্স পাশ হতে হবে। এছাড়া আপনার অনার্স বা পাস কোর্সের পর মাস্টার্স পরীক্ষা সদ্যই শেষ হয়ে থাকে তাহলে আপনি অ্যাপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়েও বিসিএস পরীক্ষায় আবেদন করতে পারে।
টেকনিক্যাল ক্যাডারে আবেদন করতে হলে আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতেই হবে। যেমন, এমবিবিএস ডিগ্রী না থাকলে আপনি ডাক্তার হিসেবে সরকারি চাকরি করতে পারবেন না।
BCS কেবল একটি পরীক্ষা নয় , বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী যাত্রা। এই যাত্রায় শৃংখলা, পরিশ্রম এবং সঠিক কৌশলী আপনাকে সফলতার ধার প্রান্তে নিয়ে যাবে। মনে রাখবেন — অধ্যবসায়,ধৈর্য ও ইতিবাচক মানসিকতাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
আরও পড়ুন
৪৮ বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি সম্পূর্ণ গাইড

তিন বছরের অনার্স করে BCS করা যাবে?
যাবে না।
Bsc তে মোখিক পরিহ্মা দিতেই হবে
অবশ্যই মৌখিক পরীক্ষা দিতে হবে।
বিসিএস পরীক্ষা কবে হবে
২০২৬
BCS ২০২৫ সালের গাইড দেন
এটি খুব দারুণ একটি ওয়েবসাইট এখানে থেকে আমি আমার BSC অনেক কিছু জানতে পারবো
ধন্যবাদ
কত বছর পড়তে হয়
৪ বছর