প্রথম বার বিমানে সফর করবেন? জেনে নিন কোন জিনিস হাতব্যাগে নিয়ে ওঠা নিরাপদ, আর কোনটি নয়।
প্রথম বার বিমানে সফর করবেন? জেনে নিন কোন জিনিস হাত ব্যাগ নিয়ে ওঠা নিরাপদ, আর কোনটি নয়।
অনেক সময় বিমানে কার্গো হোল্ডে দিয়ে চলে যাওয়া চ্যাকিং ব্যাগেজ যা নেওয়া যায়, হাত থেকে তা নিয়ে উঠা অনুমতি থাকে না বিমানে। কেবিন ব্যাগ বা হাত থাকা ব্যাগে কোনটি নেওয়া যায়, কোনটি নয়?
প্রথমবার বিমান ভ্রমণ
প্রথমবার বিমান সফরে যেন রোমান্স থাকে, তেমনি থাকে বারতি উত্তেজনা। থাকে প্রশ্নও।কোনটি বিমান যাত্রার হাতে কাছে রাখা চলে, কোনটি নয় - তা নিয়ে অনেকের স্পষ্ট ধারণা নিয়ে। অনেক সময় বিমানে কার্গো হোল্ডে চলে যাওয়ার চেক ইন ব্যাগেজে যা নেওয়া যায়, হাত বেগে তা নিয়ে ওঠা অনুমতি থাকে না বিমানে। বিমান পরিবহন সংস্থা বেবি নিয়ম কানুনে অল্প কিছু তফাৎ হলেও, বেশ কিছু বিষয় বিধি নিষেধ থাকে সমস্ত বিমান পরিবহন সংস্থাতেই।
বিমানে কি কি নেওয়া যাবে না?
বিমান বহন করা যায় না এমন জিনিস গুলি হল ধারালো বস্তু (যেমন ছুরি,কাচিঁ) দাহ্য,পদার্থ যেমন, আতশবাজি, এবং কিছু অস্ত্র, যেমন -বন্দুক, গুলি। এছাড়াও নির্দিষ্ট পরিমাণে বেশি তরল পদার্থ, কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন পাওয়ার ব্যাংক লিথিয়াম ব্যাটারি চালিত ডিভাই এবং ক্ষয়কারী বা বিষাক্ত পদার্থ বহন করা নিষিদ্ধ। এই নিয়ামগুলি নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য কঠোরভাবে পালন করা হয়।
নিষিদ্ধ জিনিসপত্রের কিছু উদাহরণ -
ধারালো বস্তু ও অস্ত্র :
- ছুরি,কাঁচি, ব্লেড এবং অন্যান্য ধারালো সরঞ্জাম।
- বন্দুক, গুলি এবং অন্যান্য অস্ত্র।
- কিছু সরঞ্জাম যেমন ডিল বা রেঞ্জও নিষিদ্ধ হতে পারে।
দাহ্য ও বিস্ফোরণ পদার্থ :
- লাইটার, দেশলাই, লাইটার জ্বালানি।
- আতশবাজি এবং অন্যান্য বিস্ফোরক।
- জ্বালানি গ্যাস এবং কিছু রাসায়নিক।
তরল ও জেল:
- হ্যান্ড লাগেজে নির্দিষ্ট পরিমাণে বেশি তরল, জেল, বা অ্যারোসল বহন করা যায় না।
- কাঁচা মাছ মাংস বা আটা চালের মতো খাদ্য সামগ্রিক নিষিদ্ধ।
বৈদ্যুতিক ডিভাইস :
পাওয়ার ব্যাংক, লিথিয়াম, আয়রন ব্যাটারী চালিত ডিভাইস, যেমন ল্যাপটপ এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম হ্যান্ড লাগেজে রাখা হয়, কারণ এগুলি চেকড ব্যাগেজে রাখা নিরাপদ নয়।
অন্যান্য :
- তেজস্ক্রিয় পদার্থে, বিষাক্ত এবং ক্ষয়কারী পদার্থের।
- বিশেষ কিছু ব্রিফকেস বা অ্যাটাটি কেস যার মধ্যে অ্যালার্ম ডিভাইস বসানো থাকে।
চেকিন ব্যাগে কি কি বহন করা যাবে না?
- বিস্ফোরক অগ্নিসংবেদনশীল পদার্থ যেমন ফ্লেয়ারগান, হ্যান্ড গ্রেনেড,ডায়নামাইট, প্লাস্টিক এক্সপ্লোসিভ,আতশবাজি।
- কম্প্রেসড গ্যাস, যেমন অক্সিজেন বাটেন, লিকুইড নাইট্রোজেন, এস্কেলেটেড ডাইভিং সিলিন্ডার।
- জ্বালানি ও দাহ্য পদার্থ, যেমন গ্যাস,টর্চ,লাইটার ফ্লুইড, কুকিং ফুয়েল।
কোন জিনিস বুকিং লাগেজ রাখা নিষিদ্ধ?
বুকিং লাগেজে স্বর্ণ অলঙ্কার, মোবাইল ফোন বা ট্যাব,নগদ অর্থ মূল্যবান জিনিস ঢাকা নিষিদ্ধ। এইসব জিনিস আবশ্যিক ভাবে হ্যান্ড লাগেজে রাখা হবে। বুকিং লাগেজে থেকে এরকম জিনিস খোয়া গেলে ইয়ারলাইন্স নেবে না। পাওয়ার ব্যাংক সহ লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহৃত হয় এমন কোন ডিভাইস বুকিং লাগেজে রাখা যাবে না।
বিমানে কোন কোন খাবার নেওয়া যাবে?
বিমানে সাধারণত সব ধরনের শক্ত খাবার যেমন, বিস্কুট চিপস স্যান্ডউইচ,ফল ইত্যাদি বহন করা যায়। তবে তরল খাবার যেমন, পানি, জুস, স্যুপ,সস,বহন করতে হয় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে, সাধারণত লিটার লিটার বা ৩.৪ আউন্সের ছোট প্যাকেটে। মাংস শাকসবজি এবং অন্যান্য কঠিন খাবার গ্রহণযোগ্য চেক-ইন লাগেজে নেওয়া যায়।
এয়ারপোর্টে কি কি চেক করে
বিমানবন্দরের মূলত আপনার পরিচয় পত্র যেমন পাসপোর্ট বা আইডি কার্ড টিকিট এবং স্বাস্থ্যসংস্ক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া নিরাপত্তা পরীক্ষা অংশ হিসেবে আপনার হাতে থাকা জিনিসপত্র ও ভেবে বিস্ফোরক বা নিষিদ্ধ কোন বস্তু আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়।
বিমানে কত কেজি মাল নেওয়া যায়?
বিমানে কি পরিমাণ মাল নেওয়া যায় তা এয়ারলাইন্স ও টিকেটে ধরনের উপর নির্ভর করে। সাধারণ যাত্রীরা হ্যান্ড ব্যাগেজের জন্য ৭ কেজি পর্যন্ত এবং চেক ইন লাগেজের জন্য ২০ থেকে ৩০ কেজি বা তার বেশি মাল নিয়ে নিতে পারে। তবে একক ব্যাগেজের সর্বোচ্চ ৩২ কেজি হওয়া যাবেনা।
বিমানে হাত ব্যাগে কি কি নেওয়া যায় না
বিমানে হাত ব্যাগে সাধারণত দাড়ালো বস্তু যেমন ছুরি, কাঁচি, রেজার, নির্দিষ্ট পরিমাণে বেশি তরল পদার্থ, বিস্ফোরক বা দাহ্য পদার্থ,বিষাক্ত রাসায়নিক এবং কিছু ধরনের ব্যাটারি যেমন, পাওয়ার ব্যাংক নেওয়া যায় না।এছাড়াও সুরক্ষার জন্য কিছু এয়ারলাইন্স নির্দিষ্ট ওজনের বা আকারের ব্যাগ বহন করার নিয়ম ও নির্ধারণ করে।
বিদেশে সিগারেট নেওয়া যায়?
হ্যাঁ, বিদেশে সিগারেট নেওয়া যায়, তবে যাত্রী ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে যেমন ২০০ টি সিগারেট বা এর থেকে দুটি কার্টুন, নেওয়া যেতে পারে। প্রতিটি দেশে নিজস্ব আইন থাকে, তাই যে দেশে যাচ্ছেন সে দেশের কাস্টম নিয়ম কারণ সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবের যেমন একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ২০০ টি সিগারেট নিতে পারেন। তেমনি যুক্তরাষ্ট্রে ও নির্দিষ্ট পরিমাণ সিগারেট নেওয়া অনুমতি আছে।
প্রসাধনী:
হাত ব্যাগে প্রসাধ্বনির ছোট বোতল নেওয়ার অনুমতি থাকলেও ট্যালকম পাউডার রাখতে দেওয়া হয় না। শ্যাম্পু বা কিমের বড় বোতল বাতিল হতে পারে।
শেষ কথা :
শখের বসে কিংবা প্রয়োজনের তাগিদে ভ্রমণ আমাদের জীবনের সাথে জড়িত। তেমনি ভ্রমণের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে আকাশ পথ। ভ্রমণ সম্পর্কিত এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য আমাদের ব্লগের অন্য পেজ গুলো দেখতে পারেন। এছাড়া বিদেশ ভ্রমণ এবং ভিসা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সরাসরি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
অন্য পোস্ট
কোন কোন জিনিস নিয়ে প্লেনে ওঠা যাবে না, হতে পারে জেল জরিমান।

. "প্রথম যাত্রা সবসময়ই বিশেষ হয় ✈️ অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা হয়েছে নিশ্চয়ই। শুভকামনা রইল সামনে আরও ভ্রমণের জন্য।"