ফেসবুক পেজ থেকে প্রতারণা এড়ানোর কার্যকর উপায়
ফেসবুক পেজ থেকে প্রতারণা এড়ানোর কার্যকর উপায়
ফেসবুক আমাদের জীবনে একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। এটি কেবল বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ব্যবসা, পর্ন-বিক্রয়, জব খুঁজা এবং বিভিন্ন তথ্য পাওয়ার অন্যতম প্লাটফর্ম। কিন্তু এর সঙ্গে রয়েছে কিছু ঝুঁকি, বিশেষ করে ফেসবুক পেজ থেকে প্রতারণা।তাই আপনাকে টাকা জরুরী।
পেজ যাচাই করার সহজ নিয়ম
পেজের নাম ও ইউজারনেম দেখুন – বড় ব্র্যান্ড হলে নাম পেলিং ঠিক আছে কি, অফিসিয়াল সন্নিবেশ ( official),verified badge (নীল চিহ্ন) যাচাই করুন ।
ফলোয়ার - এনগেজমেন্ট মিলছে কিনা – ফলোয়ার অনেক কিন্তু পোস্টে মন্তব্য/ লাইক খুব কম হলে সন্দেহ করুন, কখনো বেশিরভাগ কমেন্টস স্প্যাম বা একই ধরনের হলে সাবধান।
বৈধ লোগো এবং অফিসিয়াল ব্যাজ আছে কি – নীল টিক শুধুমাত্র পাবলিক ফিগার / বড় ব্র্যান্ডের জন্য, ব্যবসায়িক পেইজে টিক কম দেখা যাবে।
পেজে কন্ট্যাক্ট ইনফরমেশন আছে কি – ফোন,ইমেইল, অফিস অ্যাড্রেস, শুধু মেসেজে লিংক নয়।
পোস্টের ব্যাকগ্রাউন্ড কেমন –
অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা সব ৫/৫ হলে সন্দেহ করুন।
পেইজের ইতিহাস – পেজ কখন বানানো হয়েছে ও কে অ্যাডমিন,ছোট পেজ হলে কমেন্টের পেছনে ইতিহাস জানতে পারেন।
সাধারণ স্ক্যামের ধরন ও কৃত্রিম সিগন্যাল
বড়/ছাড় ও পুরস্কার যা অসাধারণ– ১০০% অজানা জয় বা সাইন-আপ করলে ফ্রি আইফোন, সাধারণত ফিশিং লিংক বা তথ্য চুরি।
প্রাক-অর্ডার না করে টাকা চাওয়া– পেমেন্ট আগে চাইলে বিস্তারিত যাচাই করুন। অফিসিয়াল চ্যানেল নম্বর আছে কিনা।
ক্লোন/ নকল পেজ– নাম ও ছবি মিললেও URL বা ইউজার নেম ভিন্ন হলে সাবধান।
ফেক কাস্টমার সার্ভিস – দ্রুত প্রক্রিয়া দেখিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য (নিবন্ধন নম্বর, এনআইডি, ব্যাংক ডিটেলস) চাইলে না দিবেন।
ডাইরেক্ট মেসেজে লিংক ফাইল পাঠানো –অচেনা লিংক বা APK/ ZIP ডাউনলোড করবেন না।
লেনদেন করার আগে নিশ্চিত করার ৭ টি জিনিস
- পণ্য / দোকানের রিভিউ বাইরে ( গুগল / দোশ/ ট্রাস্টপাইলট) চেক করুন।
- বিক্রেতার বিকল্প যোগাযোগ ( ফোন/ ইমেইল) দিয়ে কথা বলুন।
- পেমেন্ট : ডেবিট/ ক্রেডিট কার্ড বা পরিচিত প্রে- হেটওয়ে ব্যবহার করুন, ডাইরেক্ট ব্যাংক ট্রান্সফার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
- ইনভয়েস বা অর্ডার কনফারমেশন চাওয়ার অধিকার আছে।
- রিটার্ন / রিমান্ড নীতিটি স্পষ্ট আছে কি না দেখুন।
- অস্বাভাবিক ভাবে কম দাম হলে দুইবার চিন্তা করুন - হাই -ডিল সাধারণত কোকুনিং ট্যাকটিক।
- ব্যক্তিগত তথ্য ( নিড ন্ হলে) শেয়ার করবেন না, বিশেষত পাসপোর্ট / ন্যাশনাল আইডি/ পে-পাসওয়ার্ড।
সাধারণ হাতিয়ার ও টেকনিক- কিভাবে প্রতারণা ছদ্মবেশ চেনাবন
ফিশিং লিংক: লিংকে ক্লিক করলে খুব ছোট বা ভিন্ন ডোমেইনে রিডাইরেক্ট হলে সন্দেহজনক।
অতিরিক্ত সময়সীমা / আতিহাসিক চাপে ফেলে নেওয়া: আজ ওই অর্ডার করুন ইত্যাদি একটা চাপ সৃষ্টি করে।
নকল রিভিউ বা একই শব্দের অনুরূপ মন্তব্য: অনেক রিভিউ অনুরুপ টেমপ্লেট হলে সন্দেহ করুন।
অর্থপ্রদান আগে তথ্য যাওয়া: আইডি/ অ্যাড্রস/ ফিরতি চার্জ পরিশোধের জন্য আগে জমা দিন, সতর্ক থাকুন।
রিপোর্টিং ও ব্লক করা- ক্ষতি হলে করণীয়
- পেজকে ফেসবুকে রিপোর্ট করুন। scams/ Fraud অপশন নির্বাচন করুন।
- লেনদেনে টাকা হারালে আপনার ব্যাংক বা প্রি গেটওয়াকে অবিলম্বে জানতে হবে, সম্ভাব্য ঝুঁকি ব্লক বা চার্জব্যাকের প্রচেষ্টা করা যায়।
- আপনার ডেটা ফাঁস হলে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ও দুই ধাপ ভেরিফিকেশন চালু কর।
- রোমান সংগ্রহ করুন, চ্যাট,স্ক্রিনশট,পেমেন্ট, রিসিট, ইত্যাদি। এগুলো পুলিশ ও ব্যাংকে কাজে লাগবে।
- বাংলাদেশ গুরুতর স্ক্যাম হলে স্থানীয় উপজেলা/ থানা অভিযোগ করতে হবে, অনলাইন ফ্রডের জন্য সাইবার ছিল জানাতে পারেন।
ব্যক্তিগত সাইবার সুরক্ষা দৈনন্দিন অভ্যাস
শক্ত পাসওয়ার্ড +2FA( Two-Factor Authentication) চালু রাখুন।
আধুনিক অ্যাপ/ ব্রাউজার এক্সটেনশন ইনস্টল করবেন না।
সব অপরিচিত লিংকে ক্লিক করার আগে লিঙ্ক কন্টেন্ট যাচাই করুন ( URL preview / URL shortener - expand) ব্যবহার করে।
আপনার পেইজে শেয়ার বা রিলেটেড অ্যাপের পারমিশন নিয়ন্ত্রণ করুন, অথবা ডেটা শেয়ার করবেন না।
গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনের জন্য পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
ফেসবুক পেজ চালক হলে সতর্কতা
আপনার পেজে স্পষ্ট কন্টাক্ট,রিটার্ন পলিসি ও টাম্স অ্যান্ড কন্ডিশন রাখুন।
গ্রাহকদের জন্য ট্রান্সপারেন্ট রিস্টাকশন, অফিসিয়াল ই-মেইল ফোন প্রণালী দিন।
পেজ হ্যাকিং/নকল পেজ রিপোর্ট হলে দ্রুত ফেসবুককে জানিয়ে ভেরিফিকেশন নিন।
ভুয়া রিভিউ বা স্ক্যামিং অ্যাকউন্ট সতর্কতা অবলম্বন করে রিপোর্ট করুন।
গ্রাহকদের অনুরোধ করলে অর্ডার ইনভয়েস ও কনট্রাক্ট দিন,এটি বস্তুনিষ্ঠতা বাড়ায়।
যেভাবে ভুয়া অ্যাকাউন্ট রিপোর্ট করতে পারবেন
ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে গিয়ে সেই ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুঁজে ফেসবুক পেজে যান। সেখানে প্রোফাইলের একপাশের নাম, ছবি উল্টো দিকে একটু নিচে রয়েছে ৩ টি "ডট"চিহ্ন। সেখানে ক্লিক করলেই আসবে রিপোর্ট প্রোফাইল অপশন। এরপর ফেসবুক জানতে চাইবে কেন ওই প্রোফাইল আপনি রিপোর্ট করতে চান। আসবে কারণের তালিকা। সঠিক কারণে ক্লিক করলেই ভুয়া অ্যাকাউন্টের রিপোর্ট করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।
- দ্রুত চেকলিস্ট (প্রিন্ট করে রাখুন)
- মেসির ভেরিফিকেশন আছে কি?
- রিভিউ ও এনগেজমেন্ট মিলছে কি?
- কন্টাক্ট ইনফ সত্য নাকি (ফোন অফিস)?
- দাম বাস্তবসম্মত কি, পছন্দ কম দাম কি তাগিদ?
- পেমেন্ট মেথর নিরাপদ ( কার্ড/অফিসায়াল গেটওয়ে)
- রিটার্ন রিফান্ড পলিসি কি স্পষ্ট?
- লেনদেনের আগে ইন ভয়েস আছে কি না?
উপসংহার
ফেসবুক পেজ থেকে প্রতারণা ঘটনা গুলো প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। তাই আপনার সতর্কতা এবং যাচাই করার অভ্যাসই সবচেয়ে বড় নিরাপওা।সন্দেহ হলে লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না। অফিসিয়াল চ্যানেল ব্যবহার করে যাচাই করুন, এবং যদি প্রতারণা শিকার হন, তোমার রক্ষা করে দ্রুত রিপোর্ট করুন। শরম রাখবেন সতর্ক হওয়া মানেই নিরাপদ থাকা।
আরও পড়ুন 👇
ফেসবুক প্রতারণার ফাঁক এড়াবেন যেভাবে


রিপোর্ট মারার পদ্ধতি কী
BCS পস্তুতি: সম্পূর্ণ গাইড দিবেন
রিপোর্টিং ও ব্লক করা- ক্ষতি হলে করণীয় কী কী