পড়াশোনায় (এ আই) ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য

 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এ আই) আমাদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ


পড়াশুনায় ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য


এ আই সফটওয়্যারঃ

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শিক্ষার ধরন পদ্ধতি ও মূল্যায়নের মানদন্ড। এই পরিবর্তনে কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এ আই । এক সময় যেটি ছিল প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ এখন তা বাস্তবায়নের রূপ নিয়েছে। শুধু পেশাদার পরিবেশ নয় স্কুল কলেজের পন্ডিতেও প্রবেশ করেছে এ আই। বাড়ির কাজ, কোর্সওয়ার্ক এমন কি পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও শিক্ষার্থীরা এখন এআইয়ের উপর নির্ভর করছে। 

এ আই ব্যবহারঃ

এই প্রসঙ্গে সম্প্রতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অনলাইন গবেষণা সংস্থা ইউগভ।যা পরিচালনা করেছে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস এন্ড অ্যাসেসমেন্ট।জরিপ অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ২২১ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৮৯ শতাংশই মনে করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এআই ব্যবহার করা অগ্রহণযোগ্য। তাদের দৃষ্টিতে একটি শিক্ষার মৌলিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা হস্তক্ষেপ করছে এবং স্বনির্ভরতার বদলে নির্ভরতাই বাড়ছে। এ আই ব্যবহারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মতভেদ থাকলেও সবাই একমত যে এটি আর থামান যাবে না। 

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক পরীক্ষা বোর্ড ওসিআর এর প্রধান নির্বাহী জিল ডাফি বলেন,এ আইয়ের যুগে এসেও কোর্স ওয়ার্কের  মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দেওয়ার সম্ভব নয়। বরং তিনি আহ্বান জানিয়েছেন এটি সুসংগঠিত জাতির এআই কৌশল প্রণয়নের,যাতে দেশের সব স্কুল সমানভাবে ভাবে এই প্রযুক্তি সফল পেতে পারে। 

এ আই এর বিতর্কঃ

তবে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ ও মূল্যায়নের এআই ব্যবহারের গ্রহণযোগ্যতা। জরিপে দেখা যায় ৪৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক চিহ্ন ও ব্যাকারনের সহায়তার জন্য এআই ব্যবহারের ইতিবাচক মনোভাব দেখালো ৪৪ শতাংশ তাতে দ্বিমত পোষণ করেন। আর মাত্র ১৬ শতাংশ মনে করেন শিক্ষার্থীদের এআই অপব্যবহার থেকে বিরত রাখতে বাড়ির কাজের পরিমাণ কমানো উচিত। 

এআই নিয়ে বিতর্কে আরো একটি দিক হলো মূল্যায়নের  ন্যায্যতা এ মান নিয়ে উদ্বেগ। মার্চে প্রকাশিত একটি অভ্যন্তরী প্রতিবেদন দেখা যায় জিসিএসই পর্যায়ে এআই নির্ভর কাজ শিক্ষার্থীদের কর্তৃক দক্ষতা মূল্যায়নের প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারে।

 এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ বেকি ফ্রান্সিসের নেতৃত্বাধীন চূড়ান্ত সুপারিশের দিকে এগুচ্ছে, যার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে ভবিষ্যতের শিক্ষা নীতিমালা। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এ আই নিষিদ্ধ নয় বরং নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মধ্যে রেখে উপযোগী করে তোলায় সময়ের দাবি। জিল ডাফি এটিকে, একটি চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করে বলেন, স্কুল গুলোতে এআইয়ের ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে এবং এটাকে থামানো সম্ভব নয়। তাই দরকার একটি সমম্বিত জাতি পরিকল্পনা। যাতে প্রযুক্তি সুবিচার হয় এবং কোন প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে না পড়ে। 

জুন মাসে পরিচালিত আরেকটি ইউগভ জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের পাঁচজনের মধ্যে তিন জনই বেশি শিক্ষক কোর্সওয়ার্ক মূল্যায়নে এ আই ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে। তবে ২৭ শতাংশ শিক্ষক পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। 

সব মিলিয়ে বলা যায় শিক্ষাখাতে এআই এখন এক দ্বিমুখী বাস্তবতা। একদিকে সম্ভাবনার দরজা খুলছে, অন্যদিকে নৈতিকতা ও মূল্যায়নের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এখন প্রয়োজন দায়িত্বশীল নীতিনির্ধারন, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থা হয় ভারসাম্যপূর্ণ, ন্যায্য ও প্রযুক্তি নির্ভর হলেও মানবিক। 


আরও পড়ুন 


এআই ব্যবহার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 


জরুরী নিউজ লিংক 

https://www.profitableratecpm.com/pcb709w6?key=acbc5bfb78bb2b80ef604ccc281a16c2


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url