জল পানের ধরনের উপরে নির্ভর করে উপকারিতা, সুস্থ থাকতে ৫ ভুল কখনো করবেনা
জল পানের ধরনের ওরে নির্ভর করে উপকারিতা। সুস্থ থাকতে ৫ টি ভুল এড়িয়ে চলুন।
জল পান করলেই হবে না, তার ধরনের উপরও নির্ভর করে উপকারিতা। কয়েকটি ভুল এড়িয়ে চললে জল পানের উপকারিতা বাড়বে। জলের অপর নাম জীবন। চিকিৎসকরা প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে অন্তত ৪ লিটার জল পানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু জল শুধু পান করলেই হবে না। বরং কিভাবে জল পান করা হচ্ছে তার উপরে উপকারিতা নির্ভর করে। জল পানের সময় অনেকে কয়েকটি ভুল করে থাকেন-
খাবারের সঙ্গে জলঃ
খাবার খাওয়ার সময় অনেকে জল পানের অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু খাবারের সঙ্গে জল পান করলে হজমের সমস্যা তৈরি হয়। তাই খাওয়ার অত্যন্ত ৩০ মিনিট আগে বা পরে জল পান করা উচিত।
দ্রুত জলপান করাঃ
তেষ্টা পেলে অনেকে দ্রুত জল পান করে। কিন্তু এই অভ্যাস বলে দেহে তখন সাময়িকভাবে ঝটকা লাগে। তাই জল পান এর সময় মুখের মধ্যে তাকে কয়েক সেকেন্ড জন্য রেখে তারপর গিলে নেওয়া উচিত।
গরম বনাম ঠান্ডা জলঃ
সাধারণ জল পান এর সময় ঠান্ডা বা গরম জল পান করা হয়। তার ফলে সেই জলকে শরীরের উপযুক্ত করে তুলতে দেহের উপর চাপ তৈরি হয়। তাই ঘরের তাপমাত্রা রাখার জল পান করা উচিত।
জলের বোতলঃ
অনেকেই প্লাস্টিকের জলের বোতল ব্যবহার করেন। কিন্তু তাতে জলের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক দেহে প্রবেশ করে। ফলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।প্লাস্টিকের তুলনায় কাজ বা তামার বোতল থেকে জল পানের উপকার বেশি।
তেষ্টা মেটানোঃ
কেউ কেউ তেষ্টা পেলে একমাত্র তখনই জল পান করে। এই অভ্যাসের ফলে দেহে জল শূন্যতা তৈরি হতে পারে। তাই চেষ্টা না পেলেও নির্দিষ্ট সময়ান্তরে জলপানের অভ্যেস তৈরি করা উচিত।
দাঁড়িয়ে জল খেলে কি হয়?
দাঁড়িয়ে জল খেলে হজমের সমস্যা, শরীরে পুষ্টি শোষণ কমে যাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই পদ্ধতিতে জল পান করলে পুষ্টিগুণ শরীরে ভালোভাবে শোষণ করতে পারে না। যা পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করে এবং শরীরে পেশী ও অঙ্গে পানি ভারসাম্য ব্যাহত করে, এর ফলে ঘেশ ও বদ হজম হতে পারে।
জল খাওয়ার সঠিক সময়ঃ
জলপানের নির্দিষ্ট কিছু সঠিক সময় হয়েছে যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, যেমন -সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর, খাওয়ার আগে ওপরে এবং দিনে বিভিন্ন সময়ে ভাগ করে জল খাওয়া। সকালে খালি পেটে জল পান করলে শরীর থেকে বজ্র পদার্থ বেরিয়ে যায়। এবং হজম শক্তি বাড়ায়।
খাওয়ার কতক্ষণ পর জল খাওয়া উচিতঃ
খাবারের পর জল খাওয়ার জন্য ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করা ভালো। এতে হজম প্রক্রিয়া ঠিক থাকে এবং হজমে সাহায্যকারী, এনজাইমগুলো ঠিকভাবে কাজ করতে পারে। যা ঘেস পেট ফাঁপা বা বদ হজমের মত সমস্যা এড়াতে সাহায্য করে।
রাতে কতটুকু পানি খাওয়া উচিত?
রাতে ঘুমানো ঠিক আগে অতিরিক্ত পানি না খেয়ে এক থেকে দেড় ঘন্টা আগে এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করা ভালো, তবে পরিনিত পরিমাণে। রাতে বেশি পানি খেলে কিডনির উপর চাপ পড়ে এবং ঘুমের ব্যাঘাত করতে পারে, যাকে তিনি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। রাতেঅতিরিক্ত পানি পান করা থেকে বিরত থাকো। ঘুমানোর ঠিক আগে পানি না পান করে, অত্যন্ত ১ ঘণ্টা আগে পানি পান করুন।
খাওয়ার কতক্ষণ পর ওষুধ খাওয়া উচিত?
খাবার খাওয়ার পর জল খেলে হজম ভালো হয়। বিপাকক্রিয়া ভালো রাখতেও জলের ভুমিকা রয়েছে। তার জন্য সঠিক নিয়ম জেনে জল খেতে হবে।যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তারা খাবার খাওয়ার অত্যন্ত আধাঘন্টা আগে জল খাবেন। খাওয়ার ১০ মিনিট পর ওষুধ খাবে।
খাবার খাওয়ার কতক্ষণ পর ফল খাওয়া উচিত?
খাবার খাওয়ার এক থেকে দুই ঘন্টা পর ফল খাওয়া ভালো, বা দুটি খাবারের মাঝে ফল খাওয়া উচিত। ভারী খাবার খেলে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর ফল খান। খাবার খাওয়ার আগে ফল খেলে পেট বড় লাগে এবং তা হজমের সহায়ক করে, তবে খালি পেটে সাইট্রাস ফল এড়িয়ে চল। রাতে সোমবার আগে ফল খাওয়া এড়িয়ে চলো।
উপসংহারঃ
জল পানের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়। তাড়াতাড়ি গিলে না ফেলে ধীরে ধীরে পান করলে শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় থাকে হজম ভালো হয়। সকালে খালি পেটে চল পান করলে শরীর থেকে বজ্র দূর হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমে।ঠান্ডা জল পান করলে ওজন কমাতে এবং বিপাক বাড়াতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন
পুরনো জল ফেলে না ধুয়ে প্রথম জল পড়েন, এমন অভ্যাস আদো কি স্বাস্থ্যকর?
যে নিয়মে পানি পান করলে উপকার মেলে।
🖊️ লেখকের পরিচিতি (টেমপ্লেট)
সাইফুল
আমি প্রযুক্তি, ব্লগিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে নিয়মিত লিখি।
ইন্টারনেট জগতের নতুন নতুন টিপস, তথ্য ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করাই আমার কাজ।
🌐 ওয়েবসাইট: www.myksabdm.com
📧 ইমেইল: saiful125394@gmail.com
👉 আমাকে অনুসরণ করুন:
🔗 ফেসবুক: facebook.com
🔗 টুইটার: twitter.com
🔗 লিঙ্কডইন: linkedin.com/in/
