খাবারের অনীহা আছে অনেক বাচ্চারই, সন্তানের খাবার অনীহা দূর করতে করণীয় কি ?

খাবারের অনীহা আসে অনেক বাচ্চারই।  সন্তানের খাবার অনীহা দূর করতে কী কী পদ্ধতিতে কাজ করা যায়। 


খাবারের অনীহা আছে অনেক বাচ্চারই, করনীয় কি জেনে নিন।


স্কুলে যাওয়ার সময় কিংবা রাতে খাবারের সময়, খাবারের টেবিলে বসে রীতিমত যুদ্ধ বাদে অনেক বাড়িতে। কারণ আর কিছুই নয় খাবারের প্রতি সন্তানের অনীহা।কেউ বকাঝকা করেন খুদেকে।কেউ আবার গল্পচ্ছলে খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করে সন্তানকে। অনেক বাবা- মায়ের অভিযোগ সন্তান কিছু খেতে চায় না। জোর করে খাওয়াতে গেলে কান্নাকাটি করে।অথচ শিশু যদি ঠিকমত খাবার না খায় তাহলে পুষ্টি ঘাটতি থেকে যাবে। তাই জোর করে নয়, কিছু কৌশল জানা থাকলে সমস্যার সমাধান হবে সহজে। 

শিশু খেতে না চাইলে করণীয়:

জোর করে খাওয়াতে চাইলে শিশু খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হয়। এমনটাই মত শিশুরোগ চিকিৎসক পিয়ং পালের, তাঁর পরামর্শ, বাবা মাকে বুঝতে হবে, সব শিশু সমান নয়। প্রত্যেকের হজম শক্তি আলাদা। খাবার খাওয়ার পরিমাণ ও ভিন্ন। অনেক সময় বেশি খাওয়ানোর চেষ্টা করলেখেতে চায় না। অনেকেই বড়দের মতে ২ থেকে ৩ ঘন্টা অন্তর শিশুকে খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এই অভ্যাস স্বাস্থ্যকর নয়। খাওয়াতে হবে পরিমিত এবং সময় বুঝে। 

বাবা-মায়েদের জন্য কিছু পরামর্শঃ

  • একই খাবার রোজ দেবেন না। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খাওয়াতে হবে শিশুকে। খাবারে বৈচিত্র দেখবেন শিশু মনিহার দূর হবে। 
  • খাবার ঠিক মতো সাজিয়ে ছোটদের পরিবেশন করুন। সব খাবার একসঙ্গে কে একটা পার্টিতে দিলে অনেক সময় ছোটরা খেতে চায় না। তাই যায়ই দিন তা থালায় সুন্দর করে সাজিয়ে দিন। 
  • খাওয়ার ব্যাপারে সন্তানের পছন্দকে গুরুত্ব দিন। আপনি ডিম খেতে ভালোবাসেন মানে যে আপনার সন্তানই দিন খাবে, এমন যুক্তি নেই। তার মাছ মাংস ডিম পছন্দ না-ই হতে পারে।
  • শিশুকে নিয়ে খাবার খাওয়াতে বসুন। অনেকে বাড়ি খুদে সদস্যকে আগে খাইয়ে দেন। একা খেতে বস সু টিভি দেখতে চাইবো বা মোবাইল চাইবে। এতে আমার চেয়ে অন্যদিকে মন থাকবে বেশি। তাই বাড়ির সকলের সঙ্গে বসিয়ে গল্প করতে করতে শিশুকে খাওয়া। বাকিদের খাওয়া দেখলে ওর খাবারের প্রতি ও অনিহা দূর হবে।
  •  শিশুকে তাড়াতাড়ি খাওয়াতে গিয়ে অনেকে একসঙ্গে বেশি ভাত মেখে ফেলেন। কিছুক্ষণ পর সে বাদ থেকে জল কাঁদতে শুরু কর। ফলে তা বিস্বাদ হয়ে যায়। সন্তানকে খেতে ভালো লাগে না। তাই একেবারে বেশি খাবার না দিয়ে অল্প পরিমাণে খেতে দিন। একই খাবার বেশি পরিমাণ না দিয়ে নানা রকম খাবার দিয়ে থালা সাজিয়ে দিন। 

১ বছরের বাচ্চা খেতে না চাইলে করণীয় কি?

এক বছরের বাচ্চা খেতে না চাইলে, খাবারে আকর্ষণীয় ভাবে পরিবেশন করুন। বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার দিন এবং জোর করে খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন। শিশুর পছন্দ ও রুচি অনুযায়ী খাবার তৈরি করুন। এবং নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দিন। যদি শিশু নিয়মিত খেতে না চায় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

কী করবেন:

  1. খামার আকর্ষণীয় করুন 
  2. বিভিন্ন ধরনের খাবার দিন 
  3. জোর করবেন না 
  4. আবার অভ্যাস পরিবর্তন করুন 
  5. নতুন খাবার চেষ্টা করুন 
  6. পরিবেশ তৈরি করুন 
  7. আঁকা বা খেলার উপকরণ ব্যবহার করুন 
  8. বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে 


২ বছরের বাচ্চা খেতে না চাইলে করণীয় কি?

দুই বছরের বাচ্চা খেতে না চাইলে খাবার আকর্ষণীয় করুন এবং খেলার ছলে খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। বাচ্চাকে জোর করবেন না এবং আবার নির্দিষ্ট সময় বজায় রাখুন। শিশুপুষ্টিবিদদের পরামর্শ নিন যদি সে অল্প সংখ্যক খাবার খায়। ওজন কমতে থাকে বা কোন সম্পূর্ণ খাবার গ্রুপ অপছন্দ করে। অথবা যদি চিকিৎসা গত কারণ থাকে। 

সাধারণ কারণ ও সমাধান 

 খাবার আকর্ষণীয় করুন:

সবজি বা ফল দিয়ে রঙ্গিন এবং আকর্ষণীয় ভাবে খাবার সাজানো, অথবা স্যুপের মতো নতুন ধরনের খাবার পরিবেশন করুন। 

খাবারের স্বাদ ও পদ্ধতি পরিবর্তন করুন:

একই খাবার সেদ্ধ,পুডিং,  নরম ভাত বিভিন্ন উপায়ে রান্না করে দেখুন। 

বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন:

চকলেট, চিপস বা জুস এ ধরনের বাইরের খাবার অভ্যাস করলে শিশুরা ঘরে তৈরি খাবার খেতে চায় না,যা খাওয়ার রুচি নষ্ট করে। 

পরিমাণ কম দিন:

অল্প পরিমাণে খাবার পরিবেশন করুন এবং জোর না করে একটি খাবার খেতে উৎসাহিত করুন। 

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন-

  • যদি শিশু ১০টি কম খাবার গ্রহণ করে। 
  • যদি শিশু ওজন কমতে শুরু করে। 
  • যদি শিশু সম্পূর্ণ খাবার গ্রুপ শস্য, দুগ্ধজাত পণ্য,প্রোটিন ইত্যাদি প্রত্যাহার করে। 
  • যদি খাওয়ার সময় সমস্যা কোন চিকিৎসা গত কারণ বা অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে বলে মনে হয়, যেমন কোন খাবারের প্রতি সংবেদনশীলতা। 

গুরুত্বপূর্ণ টিপস -

একটি ভালো উদাহরণ তৈরি করুন:

বাবা-মা যদি পছন্দের পুষ্টিকর খাবার খেতে দেখেন তা খেতে উৎসাহিত হতে পারে। 

জোর করে খাওয়ানো থেকে বিরত থাকো:

জোর করে খাওয়ালে শিশুদের মনে খাওয়ার প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে। 

খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় মেনে চলুন:

খাওয়ার নির্দিষ্ট সময়ে বাইরে বারবার খাবার না দিয়ে, খাবার হজম হওয়ার পর খিদে লাগলে তখনই খাবার দিন। 

৩ বছরের বাচ্চা খেতে না চাইলে করণীয় কি?

তিন বছরের বাচ্চা খেতে না চাইলে খাবার আকর্ষণীয় করুন এবং খেলার ছলে খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। বাচ্চাকে জোর করবেন না এবং আবার নির্দিষ্ট সময় বজায় রাখুন। শিশুপুষ্টিবিদদের পরামর্শ নিন যদি সে অল্প সংখ্যক খাবার খায়। ওজন কমতে থাকে বা কোন সম্পূর্ণ খাবার গ্রুপ অপছন্দ করে। অথবা যদি চিকিৎসা গত কারণ থাকে। 

  • খামার আকর্ষণীয় করুন 
  • বিভিন্ন ধরনের খাবার দিন 
  • জোর করবেন না 
  • আবার অভ্যাস পরিবর্তন করুন 
  • নতুন খাবার চেষ্টা করুন 
  • পরিবেশ তৈরি করুন 
  • আঁকা বা খেলার উপকরণ ব্যবহার করুন 
  • বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে 

৫ বছরের বাচ্চা খেতে না চাইলে করণীয় কি?

পাঁচ বছরের বাচ্চা খেতে না চাইলে খাবার আকর্ষণীয় করুন এবং খেলার ছলে খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। বাচ্চাকে জোর করবেন না এবং আবার নির্দিষ্ট সময় বজায় রাখুন। শিশুপুষ্টিবিদদের পরামর্শ নিন যদি সে অল্প সংখ্যক খাবার খায়। ওজন কমতে থাকে বা কোন সম্পূর্ণ খাবার গ্রুপ অপছন্দ করে। অথবা যদি চিকিৎসা গত কারণ থাকে। 

সাধারণ কারণ ও সমাধান 

 খাবার আকর্ষণীয় করুন:

সবজি বা ফল দিয়ে রঙ্গিন এবং আকর্ষণীয় ভাবে খাবার সাজানো, অথবা স্যুপের মতো নতুন ধরনের খাবার পরিবেশন করুন। 

খাবারের স্বাদ ও পদ্ধতি পরিবর্তন করুন:

একই খাবার সেদ্ধ,পুডিং,  নরম ভাত বিভিন্ন উপায়ে রান্না করে দেখুন। 

বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন:

চকলেট, চিপস বা জুস এ ধরনের বাইরের খাবার অভ্যাস করলে শিশুরা ঘরে তৈরি খাবার খেতে চায় না,যা খাওয়ার রুচি নষ্ট করে। 

পরিমাণ কম দিন:

অল্প পরিমাণে খাবার পরিবেশন করুন এবং জোর না করে একটি খাবার খেতে উৎসাহিত করুন। 

শিশুদের খাবারে একটি রুটিন তৈরি করুন:

৬ থেকে ৯ মাসের শিশুরা বুকের দুধের পাশাপাশি দিন ফাটাফাটি পরিমাণ বাড়তি খাবার খেলেই যথেষ্ট। বুকের দুধের পাশাপাশি ধীরে ধীরে ১-২ চামচ করে খাবার খাওয়াতে হবে। ১০ মাস থেকে ১ বছরের শিশুকে আদাবাটি করে তিন বেলা, মাঝে ১-২ বার নাশতা দেওয়া যেতে পারে। 

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন-

  • যদি শিশু ১০টি কম খাবার গ্রহণ করে। 
  • যদি শিশু ওজন কমতে শুরু করে। 
  • যদি শিশু সম্পূর্ণ খাবার গ্রুপ শস্য, দুগ্ধজাত পণ্য,প্রোটিন ইত্যাদি প্রত্যাহার করে। 
  • যদি খাওয়ার সময় সমস্যা কোন চিকিৎসা গত কারণ বা অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে বলে মনে হয়, যেমন কোন খাবারের প্রতি সংবেদনশীলতা। 

গুরুত্বপূর্ণ টিপস -

একটি ভালো উদাহরণ তৈরি করুন:

বাবা-মা যদি পছন্দের পুষ্টিকর খাবার খেতে দেখেন তা খেতে উৎসাহিত হতে পারে। 

জোর করে খাওয়ানো থেকে বিরত থাকো:

জোর করে খাওয়ালে শিশুদের মনে খাওয়ার প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে। 

খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় মেনে চলুন:

খাওয়ার নির্দিষ্ট সময়ে বাইরে বারবার খাবার না দিয়ে, খাবার হজম হওয়ার পর খিদে লাগলে তখনই খাবার দিন। 

বাচ্চারা না খাওয়ার কারণ কি:

  • বাচ্চাদের জোর করে ভয় দেখিয়ে খাওয়াবেন না। 
  • চকলেট চিপস জুস দেবেন না। এইসব রুচি নষ্ট করে এবং সহজে পেট ভরিয়ে ফেলে তখন ঘরে তৈরি পুস্টিকর খাবার খেতে চায় না। 
  • মোবাইল টিভি ইত্যাদি যন্ত্রের সামনে বসিয়ে না খাওয়ানোই ভালো। এতে খাবারের প্রতি মনোযোগ না থাকায় কী খাচ্ছে বুঝতে পারে না। 

উপসংহারঃ

শিশুদের খাবার এটি রুটিন তৈরি করুন, খাবারের ঘনত্ব ঠিক রাখতে হবে যেন খাবার পুরোপুরি ব্লেড করে বা তরল করে দেওয়া যাবে না। আদা শক্ত খাবার শিশুকে কিছুটা চিবিয়ে খাবে। ঘরের পরিবেশ সুষ্ঠু ও শিশু বান্ধব রাখুন। খাবারের বৈচিত্র আনুন। শিশুকেও খাবার আয়োজনে যুক্ত করুন। শিশু খাওয়া-দাওয়া করছে না, সেই সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ছে, অপুষ্টি লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, শিশু খেলাধুলা উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে, শিশু খাবার খাচ্ছে না। জিব্বা উপরে পুরো সাদা স্তর পড়ে গেছে, যা ছত্রাকের কারণে হতে পারে। 

আরও পড়ুন 

বাচ্চার জ্বর হলে করণীয় কি? ঘরোয়া প্রতিকার।


সন্তানের খাবার অনিহা দূর করতে পারে থালা সাজিয়ে। 


🖊️ লেখকের পরিচিতি (টেমপ্লেট)

 সাইফুল

আমি প্রযুক্তি, ব্লগিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে নিয়মিত লিখি।

ইন্টারনেট জগতের নতুন নতুন টিপস, তথ্য ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করাই আমার কাজ।


🌐 ওয়েবসাইট: www.myksabdm.com

📧 ইমেইল: saiful125394@gmail.com


👉 আমাকে অনুসরণ করুন:

🔗 ফেসবুক: facebook.com

🔗 টুইটার: twitter.com

🔗 লিঙ্কডইন: linkedin.com/in/




Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url