সন্তানের চোখ সারাক্ষণ কার্টুনে! কি কি সমস্যা হতে পারে এবং এর সমাধান কি?
সন্তানের চোখ সারাক্ষণ কার্টুনের! কি কি সমস্যা হতে পারে এবং এর সমাধান কি?
আপনি নিশ্চয়ই দেখেছেন টেলিভিশন কিংবা মোবাইলে কোন ভিডিও ছেড়ে দিলে বাচ্চারা সেটা হা করে দেখে। শিশুর চেঁচামেছি, কান্নাকাটি থামাতে কিংবা খাওয়ানোর সময় কার্টুন ভিডিওর মত সাহায্যকারী বাবা মায়ের জীবন আর কিছুই নেই। আসলে সাহায্যের বদলে এগুলো শিশু জীবন সর্বনাশ ডেকে আনে।
ছোটরা কার্টুন দেখতে পছন্দ করে। কখনো কখনো তা বিনোদনমূলক আমার কখনো কখনো তা শিক্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু শিশুরা কতক্ষণ কার্টুন দেখছে, তার উপর নির্ভর করে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য।
কার্টুন কি সত্যিই বাচ্চাদের জন্য খারাপ?
কার্টুন দেখার মাধ্যমে ছোটরা অনেক বিষয় সহজে শিখতে পারে। যেমন ভাষা, রং, কোন সমস্যা সমাধান সম্পর্কে খাতুন তাদের ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি কার্টুনের মাধ্যমে অল্প বয়সে গল্প শোনার প্রতি তাদের আকর্ষণ তৈরি হতে পারে।
শিশুদের উপর কার্টুনের নেতিবাচক প্রভাব?
বিভিন্ন কার্টুনের গল্পের গতিপথ বহু রকমের হতে পারে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুতগতিসম্পন্ন কাটুন একটানা ৯ মিনিটের বেশি দেখলে শিশুদের একাগ্রতা বিঘ্ন ঘটতে পারে। কখনো কখনো তা তাদের সমস্যা সমাধান বা বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে যদি স্কিন টাইম বেশি হয়, তাহলে অনেকের কথা বলা, স্মৃতি সংরক্ষণ, বা সামাজিক আদান-প্রদানের বিভিন্ন রীতি দেরিতে আয়ত্ত করে।
অনেক সময় অতিরিক্ত কার্টুন দেখার কলেজ ছোট্টরা পছন্দের চরিত্রের অনুসরণ করতে শুরু করে। তার ফলে তাদের ব্যবহার বা কথা বলার ভঙ্গি পরিবর্তন আসতে পারে। কাল্পনিক বা বাস্তব জগতের মধ্যে পার্থক্য করতেও হতে পারে।
দেখার মাধ্যমে ছোটদের দৈনিক স্ক্রিন টাইম বাড়তে থাকে। তার ফলে অনেক সময় তাদের মানসিক জগতের পরিবর্তন করতে পারে। ছোটদের মনে উদ্বেগ বাড়তে পারে। ফলে খেলাধুলা বা অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমে তাদের আগ্রহ কমতে পারে।
সন্তানের খাতুনের প্রতি আজ শক্তি বাড়ছে, কি করতে পারি?
- কার্টুন অনেক সময়ে হিংসাত্ম হতে পারে। তাই ছোটদের জন্য বিষয় বড়দেরই নির্বাচন করে দেওয়া উচিত। ধীরগতি শিক্ষামূলক কাটুন তাদের দেখার পরামর্শ দেওয়া উচিত।
- যে সমস্ত শিশু এখনো স্কুলে প্রবেশ করেনি, তাদের ক্ষেত্রে দিনে এক ঘন্টা বেশি কার্টুন দেখতে দেওয়া উচিত নয়।
- কার্টুনের পাশাপাশি ছোটদের গল্প করা, বা বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে খেলাধুলা করার পরামর্শ দেওয়া উচিত।
- কাল্পনিক বাস্তব জগত সম্পর্কে ছোটদের স্পষ্ট ধারণা তৈরীর জন্য তাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা উচিত। ছোটদের শান্ত রাখতে সব সময় কার্টুন ব্যবহার করা উচিত নয়।
টিভি কেন শিশুদের জন্য ক্ষতিকর?
সহজ ভাষার বললে, মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট কিংবা টেলিভিশন গেম, এডুকেশনাল বা শিক্ষনীয় ভিডিও অথবা ই-বুক এর মত স্কিন বেইজড মিডিয়া শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তি বিকাশ ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। শিশুরা তাদের বুদ্ধি ভিত্তিক, ভাষাগত আর সামাজিক মানসিক দক্ষতা বড় অংশ জীবনের প্রথম দুই বছর অর্জন করে। তবে দুই বছর পার হওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুদের এই সব থেকে দূরে রাখতে পারলে আরো ভালো।
শিশুর স্কিনটাইম যেভাবে ম্যানেজ করবেন
শিশু যত বড় হবে, তার চারপাশে স্কিন নির্ভর দুনিয়া থেকে তাকে আলাদা করা তত কঠিন হবে।কোন না কোনভাবে মোবাইল বা টিভিতে ভিডিও দেখার সাথে সেস্যু পরিচিত হয়েই যায়।
- আপনাকে সতর্ক হতে হবে যাতে ওর ভিডিও দেখার অভ্যাস অস্বাস্থ্যকর এবং ওড়না হয়ে যায়।
- সুযোগ পেলে বাচ্চাদের সাথে প্রোগ্রাম দেখুন।
- ব্রেক গ্রাউন্ড দিয়ে টিভি অন রাখবেন না।
- শিশুকে শান্ত করতে মিডিয়া ব্যবহার করবেন না।
- শিশুকে বিজ্ঞাপন দেখাবেন না।
- শিশুদের জন্য বানানো হলেও সব প্রোগ্রাম বাগে দেখাবেন না।
শেষ কথা
অল্পবয়সীদের সময় কাটানোর মাধ্যম কার্টুন। তা শিক্ষণীয় হতে পারে। তবে কার্টুনের ধরন এবং কতক্ষণ তা দেখা হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনারা যারা বাচ্চাদের অভিভাবক আছেন, তারা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন এবং সময় নির্ধারণ করে দিবেন।
আরও পড়ুন
আপেলের বীজে থাকে বিষ,ভুলবশত খেয়ে ফেললে কি বিপদ হতে পারে?
শিশুর কার্টুন আসক্তি, মনোযোগ, আচরণ ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কিভাবে এরাবেন ।

"শিশুরা সারাক্ষণ কার্টুনে ডুবে থাকে, এতে তাদের পড়াশোনা ও বাস্তব জীবনের প্রতি মনোযোগ কমে যায়। তাই অভিভাবকদের উচিত সময় বেঁধে দেওয়া এবং শিক্ষামূলক কার্টুন দেখতে উৎসাহিত করা।"
👉 শিশু যদি সারাক্ষণ কার্টুন দেখে তবে চোখে চাপ পড়ে। এর ফলে চোখ লাল হওয়া, পানি পড়া, চোখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া এমনকি ভবিষ্যতে চশমার পাওয়ার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই শিশুদের চোখের স্বাস্থ্যের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর পর বিরতি দেওয়া এবং বাইরে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা জরুরি।
ঠিক বলেছেন।
প্রতিটি সন্তানের গার্জিয়ান সচেতন হতে হবে।
ঠিক বলেছেন ভাই।
আমার বাচ্চা শুরু মোবাইল দেখতে চায়,
দিবেন না।
তাদের যদি খাবারের সময় না দেখতে দিই তবে খেতে চাই না কি করতে পারি?
খেলনা দিয়ে চেষ্টা করতে হবে খাওয়ার জন্য ♥️♥️